কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অবস্থিত কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ দ্বৈত বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ার) রাত ৮টার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়, পরে রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে পাম্পের একটি লাইনে গ্যাস লিকেজ ধরা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে লিকেজ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা দাহ্য গ্যাসে আগুন ধরে যায়।
রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের ভবনের কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীসহ অন্তত ১৭ জন দগ্ধ হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণের আগুনে গ্যাস পাম্পটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৫০টির বেশি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাম্পের পাশে পার্কিং করা বিভিন্ন মডেলের অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে গেছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। অনেকে এটিকে ভূমিকম্পের মতো অনুভব করেছেন বলে জানান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজ থেকে জমে থাকা দাহ্য গ্যাসে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম দফার লিকেজ নিয়ন্ত্রণের পর হঠাৎ দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর কলাতলী বাস টার্মিনাল ও শহরের বাইপাস সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিকল্প সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। মাইকিং করে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।এ ঘটনায় পর্যটননগরী কক্সবাজারজুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।


