সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫
spot_img

বাজেটের পর বাজারে যেন বাজারে যেন দীর্ঘশ্বাস

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ ঘোষণার প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজারে। বাজারে যেন দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নেই। দাম তো কমেইনি, বরং আরেক দফা বেড়েছে। এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ালে মিনিটের মধ্যে কার্যকর হয়। আর দাম কমালে দিনের পর দিন তা কার্যকর হয় না।

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আলু ও ডিমের দাম। কোরবানি ঈদের আগে চড়া গরম মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, চিনির দামও। বাজেটে ভোগ্যপণ্যের দাম কমাতে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ ক্রেতারা। বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম আগের মতোই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কিছু কিছু মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ-মাংসসহ সব ধরনের পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক পণ্য আগের কেনা রয়েছে, তাই বাজেটের প্রভাব বুঝতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করছেন না। কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করলে ব্যবসায়ীরা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে অন্তত ২৭টি প্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্য সরবরাহের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-পেঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, চাল, গম, আলু, মসুর, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, ময়দা, আটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা, পাট, তুলা, সুতা এবং সব ধরনের ফলসহ ২৭ পণ্য।

আলু গত সপ্তাহে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হলেও শনিবারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে অস্থির ভোগ্যপণ্য বা মসলার বাজারও। এর মধ্যে দাম বেড়েছে জিরা, দারচিনি ও লবঙ্গের।

ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি জিরার দাম ৪০-৬০ টাকা বেড়ে ৬৮০ টাকা, ১২০ টাকা বেড়ে লবঙ্গ ১৩শ’ এবং ১৫ টাকা কমে দারুচিনি ৩৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে গোলমরিচের দাম। খাতুনগঞ্জে ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা কেজি দরে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে। এখনো বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে হলুদ, এলাচ, গোলমরিচ এবং আদা। হলুদ কেজিপ্রতি ২৬০, এলাচ ৪ হাজার ১০০, আদা ২২০, রসুনের কেজি ২১০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে পেঁপে ৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকায়, গাজর ৯০ টাকা, শসা ৬০ টাক, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০, সোনালি ৩৩০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি দরে শুক্রবার বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১১শ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

এসব বাজারে মাছ বিক্রি হচ্ছে রুই ২৬০ থেকে ৩৬০, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৬০, মৃগেল ২০০-২৫০, পাঙাশ ১৮০-২২০, তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারই বাজেটের পর বাজার লাফায়, এটাই যেন রীতি। ভোক্তারা ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। কার্যকর হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করারও যেন কেউ নেই। সাধারণ মানুষ অসহায় অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে।

খাতুনগঞ্জে মসলার ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজেটে শুল্ক বা ট্যাক্স কমালেও তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমার সুযোগ নেই। এখন যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তা অনেক আগের কেনা পণ্য। শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়তে এক মাসের বেশি সময় লাগবে।

দৈনিক পূর্বকাল/ এইচডি

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা

সাতকানিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধ যুগের বেশি সময় পর...
spot_img