নিজস্ব প্রতিবেদক: যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুুরী। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার এই গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে।
তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর সমগ্র দেশে যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহী জিয়ার স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘরকে সমন্বিতভাবে একটি ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও জানান, দর্শনার্থীরা যাতে প্রথমে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে সংশ্লিষ্ট জাদুঘরে যেতে পারেন সে ধরনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিককে যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


