অনলাইন ডেস্ক: আজ পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা। দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করছে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, প্রভাত ফেরি, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা ও সমবেত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনায় রয়েছে বিশেষ প্রার্থনা।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গৌতম বুদ্ধ মানবকল্যাণে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। তাঁর আদর্শ শান্তি ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজ গঠনে আজও প্রাসঙ্গিক।
বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ স্মরণে এই দিন উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে বুদ্ধের দর্শন শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করে আসছে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সরকার কাজ করছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে বুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে দেশের উন্নয়নে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি সকলের জন্য সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।গৌতম বুদ্ধ আজীবন শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তাঁর ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বাণী বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করে আসছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি গৌতম বুদ্ধ-এর অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণার শিক্ষা বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষের কল্যাণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুদ্ধ পূর্ণিমার শিক্ষা মানবতার শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনবে।
বৌদ্ধ ধর্মমতে, বৈশাখী পূর্ণিমার এই দিনে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এ কারণে দিনটি বৌদ্ধদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।সাধারণত ভোরে ত্রিপিটকের শ্লোক পাঠ ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। দিনজুড়ে চলে পূজা, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে।এ ছাড়া রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বরগুনা, রংপুর ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও দিবসটি পালিত হচ্ছে।দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ প্রতিবেদন; পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।


