অনলাইন ডেস্ক: দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিকি প্যাকেজিং এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ব্যবসা শুরু করতে একজন উদ্যোক্তাকে ২৫ থেকে ২৬ ধরনের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়।এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ে। এই জটিলতা কমাতে সরকার ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে তারা দ্রুত ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বিশ্ব গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে পড়ছে।বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান মুক্তাদির।তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একটি ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ অবস্থায় সাময়িক সমাধান দিয়ে এগোনো সম্ভব নয়। টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু শিল্প-প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল জমি ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে।তিনি আরো বলেন, দেশের চিনিকলগুলো বড় পরিমাণ জমির ওপর গড়ে উঠেছে। সেখানে আধুনিক শিল্পপার্ক বা বহুমুখী শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে বিপুল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।প্যাকেজিংশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে এ খাতের বড় সুযোগ রয়েছে। সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে উদ্যোক্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।অনুষ্ঠানে প্যাকেজিংশিল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


