অনলাইন ডেস্ক: দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শনিবার (২৩ মে)। সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সাধারণ শাখা বিভাগের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৫ এর প্রার্থী ও ভোটারদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অর্ডিনারী ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে’।চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব নেন তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তাঁর মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য সংগঠন-১ অনুবিভাগের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা আদেশে নতুন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।তাঁর মেয়াদও শেষ হওয়ায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহের হোসেন।এভাবে গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।মামলা-পাল্টা মামলায় ঝুলে ছিল নির্বাচন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচবার স্থগিত করা হয় নির্বাচন, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।
সব বাধা কাটিয়ে চেম্বার নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণায় খুশি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বিগত সময়ে একক আধিপত্যের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেমন কাঙ্ক্ষিত উন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও পাননি। এ কারণে ব্যবসায়ীদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চেম্বারের নির্বাচন এখন গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে চেম্বারে আবারও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সরওয়ার হোসেন সাগর, বারভিডা প্রেসিডেন্ট আবদুল হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শওকত রাসেল, টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর স্বত্বাধিকারীরা নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।চট্টগ্রাম চেম্বারের কার্যক্রম মূলত আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ জন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ৬ জন পরিচালক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ৬ জন পরিচালক সমঝোতার ভিত্তিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে এই ২৪ জন পরিচালকের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়।
সংগঠনটিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে চার হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য হিসেবে দুই হাজার ৭৬৪ জন, শহর সমিতির সদস্য হিসেবে ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য হিসেবে ১০ জন সহ মোট ৬ হাজার ৭৮০ জন সদস্য তালিকাভুক্ত আছেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম, অন্যটি সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সমমনা পরিষদ।


