অনলাইন ডেস্ক: নগরের বাকলিয়ায় থানার চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন।এ সময় আসামি মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। সকাল এগারোটা দিকে ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য শুরু হলে আসামি মনির হোসেন নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।
আদালত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এক ঘণ্টা সময় দেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালে রাস্ট্রপক্ষ থেকে আসামি মনির হোসেনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বাংলানিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন সোমবার ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
এরপর মঙ্গলবার আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১০ জুন) স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আদালতের প্রশিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০), কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, ভুক্তভোগী ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, আসামিকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।


