ক্রীড়া ডেস্ক : ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে স্কটিশরা।যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডের জয়ের নায়ক জন ম্যাকগিন। প্রথমার্ধের ২৮তম মিনিটে তার করা একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে হাইতির রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্কটিশরা। জন ম্যাকগিনের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি।গোলের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে হাইতি। তবে প্রথমার্ধে স্কটল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ক্যারিবীয় দেশটি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় হাইতি। বিশেষ করে শেষ ১৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে উইলসন ইসিদরের পরিবর্তে লেনি জোসেফকে নামিয়ে আক্রমণভাগে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন হাইতির কোচ।
৭৮ মিনিটে জ্যাঁ-রিকনার বেলেগার্দের কর্নার থেকে তৈরি হয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি। স্কটল্যান্ড প্রথমে বল ক্লিয়ার করলেও জসুয়ে কাসিমির দ্রুত আবার বল ডি-বক্সে ফেরত পাঠান। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি হাইতি।
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় হাইতি। বক্সের ভেতরে ভেসে আসা বলে ফ্রান্সদি পিয়েরো দুর্দান্ত হেড নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। গোল থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিল হাইতি।
একই সময়ে স্কটল্যান্ডও কয়েকটি কৌশলগত পরিবর্তন আনে। গোলদাতা জন ম্যাকগিনকে তুলে ফিন্ডলে কার্টিসকে নামানো হয়। পাশাপাশি লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের জায়গায় মাঠে আসেন কেনি ম্যাকলিন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন রেফারি। তখনও সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় হাইতি। ৯০+৪ মিনিটে আবারও সুযোগ পান ফ্রান্সদি পিয়েরো। কিন্তু শট নেওয়ার মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় সেই সুযোগও নষ্ট হয়।
শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে গিয়ে স্কটল্যান্ডের ফিন্ডলে কার্টিস ও কেনি ম্যাকলিন হলুদ কার্ড দেখেন। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয় স্টিভ ক্লার্কের দল।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে স্কটল্যান্ড। অন্য ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় উভয় দলের পয়েন্ট ১। পয়েন্টহীন হাইতি রয়েছে গ্রুপের তলানিতে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয় পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্কটিশ সমর্থকরা। আর হাইতির জন্য আক্ষেপ হয়ে থাকল একের পর এক মিস করা সুযোগ। তবে লড়াকু পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে দলটিকে।


