নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরের চকবাজার থানার বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি ইশতিয়াককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এ তথ্য জানায় র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন।
তিনি জানান, চকবাজার থানার বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন পলাতক আসামি ইশতিয়াক দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার শিলক মিনাগাজির টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।গ্রেফতার ইশতিয়াক, চকবাজার থানার ডিসি রোড শিশু কবরস্থান এলাকার ইদ্রিসের ছেলে।
র্যাব-৭ জানায়, নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দাতিনাথালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসেমের ছেলে এবং বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার দিন গত ১২ এপ্রিল বিকেলে সাজিদ তাঁর বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে বৌ-বাজার এলাকায় একটি টং দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় আইমন, অনিক, রানা ওরফে মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েসসহ আরও কয়েকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নগরের চকবাজার থানার ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলায় আশ্রয় নেন সাজিদ। পরে অভিযুক্তরা ভবনের দারোয়ানকে চোর ঢুকেছে বলে গেট খুলতে বাধ্য করে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের অষ্টম তলার লিফটের ফাঁকা স্থান দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে গত ১৩ এপ্রিল চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


