সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
spot_img

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, টিকাদান কেন্দ্রে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় ১৪ মাস পর শুরু হওয়া ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রাম জেলা ও সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে চলমান এই বিশেষ ক্যাম্পেইন শেষ হবে বিকেল ৪টায়।অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৭৯ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন শিশুসহ মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলায় ১৭টি স্থায়ী ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য ১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১ লাখ ২ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ২ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯২ হাজার শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭০ হাজার শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৪১টি স্থায়ী ও ১ হাজার ২৮০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১ লাখ ৫ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ২ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ লাখ ৯১ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়েছে।
নগরের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, সকাল থেকে অভিভাবকরা সন্তানকে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। পশ্চিম বাকলিয়া নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আমিন বলেন, কোনও শিশু যেন বাদ না যায়, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। তবে শিশুকে অবশ্যই ভরা পেটে এই ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। ক্যাপসুলের মুখ কেটে ভেতরে থাকা তরল ওষুধ চিপে খাওয়ানো হয়। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ক্যাপসুল খাওয়ানো ঠিক নয়। এতে ক্যাপসুলের তরল লালার সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।
নিয়ম অনুসারে বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হয়। তবে ক্যাপসুল সংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৪ মাস পর রোববার (২৮ জুন) এই ক্যাম্পেইন শুরু হলো।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়, মৃত্যুঝুঁকি কমায়।
বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত হয়। ২০০৩ সাল থেকে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ হিসেবে এই কর্মসূচি পরিচিতি পায়।
চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এলাকার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এ কর্মসূচি সফল করতে হবে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৬ থেকে ১১ মাসের প্রতিটি শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। চসিক এলাকায় ৭টি ইপিআই জোনের আওতায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে বাদ পড়া শিশুকে অভিভাবকরা ইপিআই কেন্দ্রে এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবেন।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img