নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীতে নকশাবহির্ভূত ও অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে অভিযানের প্রথম দিনে নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় অন্তত ছয়টি বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভবনের মালিককে মোট ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চউক সূত্র জানায়, অভিযানে একাধিক ভবনে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, চট্টগ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভবন মালিক অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না। অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের পর ভবনের চারপাশে অবৈধ সম্প্রসারণ করা হয়। এছাড়া সড়ক ও নালা থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখা, পাশের ভবনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রাখা এবং অনুমোদিত তলার বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের মতো বিধিনিষেধও লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
চউকের কর্মকর্তারা জানান, ভবন মালিকদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে অবৈধ অংশ অপসারণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবা সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযানের বিষয়ে ভবন মালিকদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব চউকের থাকলেও সংস্থাটি সময়মতো কার্যকর নজরদারি করেনি। তাদের দাবি, যথাসময়ে তদারকি করা হলে অনেক অনিয়ম শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। চউকের তদারকির ঘাটতির সুযোগ নিয়েই অনেক ভবনে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, কষ্টে অর্জিত অর্থ ব্যয় করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করবেন না। অন্যথায় আইন অনুযায়ী সেই স্থাপনা ভেঙে ফেলতে চউক বাধ্য হবে। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে চউক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক ও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।


