অনলাইন ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদরাসার দেয়ালধসে চার ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদরাসা ও হিফজখানায় এ ঘটনা ঘটে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল আহমদ জানান, প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মাদরাসার একটি দেয়াল ধসে পড়ে। এতে হিফজখানায় থাকা সাতজন ছাত্রী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহতরা হলেন— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। আহতরা হলেন আসরা (৯), বেগম জান (১৫) ও ফারেসা বিবি (১২)। হতাহত সবাই কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এ পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘মাদরাসার ভেতরে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ক্যাম্পের হেড মাঝি আব্দুল হামিদ বলেন, বুধবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই দেয়ালধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেয়ালধসে আটজনসহ কক্সবাজার জেলায় মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বুধবারের এ ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হওয়ায় জেলায় টানা বর্ষণজনিত দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।


