নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত নাম সাহেদ বকস। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সংগঠক, রাজনৈতিক কর্মী এবং জনসম্পৃক্ত হয়েছে সমাজসেবক হিসেবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা সাহেদ বকসের শৈশব ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের এক শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন পারিবারিক পরিবেশে। তার বাবা খোদা বকস ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার এবং মা প্রয়াত আফরোজা বেগম। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। শিক্ষাজীবনের সূচনা ঘটে চট্টগ্রাম ইস্পাহানি পাবলিক স্কুলে। পরবর্তী সময়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এম এস কলেজ থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে শৈশব থেকেই। ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকাকালীন তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৯২ সালে তিনি নাজিমুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৩ সালে তিনি ঐতিহ্যবাহী শতদল ক্লাবের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলাধুলা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ফ্রেন্ডস ক্লাবের গভর্নিং বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা তার সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতিফলন।
২০১০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরবের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে যথা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হননি। রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জনসচেতনতামূলক উদ্যোগে তার অংশগ্রহণ রয়েছে।
জামালখান ওয়ার্ডে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে স্থানীয় জনগণের কাছে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি বিশ্বাস করেন,একটি ওয়ার্ডের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাজ গড়ে ওঠে।
কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তিনি জামালখান ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং নাগরিকবান্ধব মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার উন্নয়ন ভাবনায় রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, যুব উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা এবং সামাজিক অংশগ্রহণভিত্তিক উন্নয়ন কাঠামো। বিশেষভাবে তিনি শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘জামালখান ওয়ার্ড গার্ডিয়ান ক্লাব’ এবং ‘ফিউচার স্কিলস ইনষ্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সমন্বয়ে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ, নৈতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মমুখী প্রস্তুতির একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চান। তিনি মনে করেন, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই সমাজের মানুষ উন্নত হয়।


