নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি। পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হবে। আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন পরবর্তী প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন ব্যানার, টি-শার্ট ও টুপি পরিধান করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে কাজির দেউরী, নেভির মোড়, অফিসার্স ক্লাব, র্যাডিসন ব্লু মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনঃরায় সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। তাই প্রতিটি নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থার একার পক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ সকল সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীগণ র্যালিতে অংশ নেন। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। ভবনের ছাদ, ড্রেন, বাগান, জলাধার, অব্যবহৃত স্থান ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এদিকে সকাল ১১টায় কোর্ট হিলস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৃথকভাবে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র্যালির আয়োজন করা হয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আঙ্গিনা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভবনের ছাদে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারগণ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এডিএম, সকল এডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ কর্মচারীরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে চলমান ও টেকসই করতে প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত একদিন সকল সরকারি দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা, মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।


