সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
spot_img

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় ধস, পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা, এক বিষয়ে ফেল এবং শূন্য পাস করা বিদ্যালয়েরও।বিপরীতে কমেছে জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও ২০২৫ সালে আবার কমে হয় ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।আর ২০২৬ সালে বড় পতন ঘটে, পাসের হার নেমে আসে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৬৩ জন। বহিষ্কৃত হয়েছে ১০ জন পরীক্ষার্থী। ফলাফলে অকৃতকার্য হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।

বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী

পাসের হার কমার বিপরীতে গত পাঁচ বছরে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৩২ হাজার ৫৫৩ জন। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হলেও ২০২৫ সালে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৭৫৬ জনে পৌঁছেছে।

শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য ছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

কমেছে জিপিএ ৫

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪৫০ জনে। ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ ৫ পায়।

২০২৬ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলেও বড় ধস

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও এবার অবনতি দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। ২০২৫ সালে এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ, যা চলতি বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।

কমেছে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও এবার উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭১টি। ২০২৩ সালে তা কমে ৪৫টি, ২০২৪ সালে ৪৬টি এবং ২০২৫ সালে ৩৩টিতে নেমে আসে। চলতি বছর আরও কমে মাত্র ২১টি বিদ্যালয় শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে।

অন্যদিকে বেড়েছে শূন্য পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য ছিল না। ২০২৫ সালে একটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮টিতে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হারের মধ্যে থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১৫১টি। চলতি বছর তা বেড়ে হয়েছে ৪৬৮টি। বিপরীতে ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৭০টি থেকে কমে ৬৯৩টিতে নেমেছে।

অঞ্চলভিত্তিক ফলেও একই চিত্র

চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। ২০২৫ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন অন্যান্য জেলাতেও পাসের হার কমেছে। কক্সবাজারে ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। রাঙ্গামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে হয়েছে ২১৮টি।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ ৫, শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়-প্রায় সব সূচকেই অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে অকৃতকার্য ও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠ্যসূচির পরিবর্তন এবং পরীক্ষার মান বিবেচনায় ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে অকৃতকার্যের হার বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তাদের মতে, পাসের হার কমে যাওয়াকে শুধু ফল বিপর্যয় হিসেবে না দেখে শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং শিক্ষকদের পাঠদানের মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ভুলের অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত নিয়মে তা যাচাই ও পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

 

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...
spot_img