অনলাইন ডেস্ক: ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সহযোগী ও কালা মোবারক নামে পরিচিত মোবারক হোসেনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩টি গুলি ও গুলির খোসা এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো.মাসুদ আলম।গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ফটিকছড়ি থানার একটি দল শাহনগর পল্লানপাড়ায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।তাদের মধ্যে রাইহান শিবির বাবুলের ফুফাতো ভাই। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় গত ১৩ জুন মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃত আসামি।
তিনি আরও বলেন, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। তিনি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশে তৈরি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৯ এমএম পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি এবং ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলটি ইতালির তৈরি। উদ্ধার করা ৯ এমএম পিস্তলটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ এমএম গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা ও চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস এবং সেগুলো কীভাবে অপরাধীদের হাতে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


