নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচলাইশে একটি বাড়িতে দিনে দুপুরে ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩১ আগষ্ট) গভীর রাতে চাঁন্দগাও ও পাঁচলাইশ থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল, পাঁচলাইশের ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডস্থ হাদু মাঝির পাড়ার মোঃ রবি (২৮), একই এলাকার সফি আহমদের পুত্র আলাল আহমদ পারভেজ (২৮) ও মৃত ইউনুছের পুত্র মো. ফয়সাল (২৮)। তবে দিন-দুপুরে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনার ৩ দিন পর অবশেষে চুরির মামলা গ্রহণ করে পুলিশ, এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূরুল কবির।
গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী পাঁচলাইশ থানার এস আই মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আসামীদের চাঁন্দগাও ও পাঁচলাইশ থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদের আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল কবিরের (৪২) সাথে আসামীদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় মামলার বাদী নুরুল কবির ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা (৩০) বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-০৩(১১)২০২৪, মামলা নং-০৪(৬)২০২৬, মামলা নং-২৩(৬)২০২৬ দায়ের করে। যাহা আদালতে বিচারাধীন এবং থানায় তদন্তাধীন আছে। এতে আসামীরা বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়ার সাবের মাষ্টারের বাড়ির অজিফা ম্যানশনে গত ২৮ আগষ্ট শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে বাদীর অনুপস্থিতিতে অপু-সোহেলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে নুরুল কবিরের বাড়ির সিসি ক্যামরা ভাংচুর করে বাসায় ঢুকে কবিরের স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নুরুল কবির থানায় ডাকাতির ঘটনায় এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, আনোয়ার, রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে এজাহার প্রদান করলেও পুলিশ ৩দিন পর চুরির মামলা (নং ২৪(৮)২৬) গ্রহণ করে।

এদিকে বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হলে পাঁচলাইশ থানার এস আই সাজ্জাদ হোসেন তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তকালে গুপ্তচরের তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ আগষ্ট সোমবার রাত আড়াইটার দিকে সিএমপি’র চাঁন্দগাও থানাধীন নিজ বাসা থেকে মামলার ৫নং আসামী রবিউল হাসান রবিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাত তিনটায় পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকা থেকে ৬নং আসামী পারভেজ আহমেদ জালাকে এবং রাত সাড়ে তিনটায় পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন মাঝির দোকান এলাকা থেকে ৭নং আসামী মোঃ ফয়সাল (২৫) কে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
যে মামলাগুলো তুলে নিতে ওই ডাকাতির ঘটনা: ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের বাড়ীতে ২০২৪ সালে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় সন্ত্রাসী ইলিয়াস হোসেন অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাহসিন হত্যা ও চুরির মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ইলিয়াস হোসেন অপু নুরুল কবিরের নিকট সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীসহ মামলা তুলে না নিলে ডিশ-ওয়াইফাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১ জুন জয়নাল আবেদীন সোহেল ও ইলিয়াস হোসেন অপুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের রিক্সার গ্যারেজে আটকে রেখে ২ দিনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী পূর্বক মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন নুরুল কবিরের বাসার সামনে এসে তাকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হলেও অজানা কারণে উল্লেখযোগ্য আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা নূরুল কবিরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে নুরুল কবির অন্যত্র বসবাস করলেও তার স্ত্রী-সন্তানেরা বাসায় থাকতেন।
ভুক্তভোগী নুরুল কবির অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সব আলামত সংগ্রহ করেন। সুস্পষ্ট ডাকাতির ঘটনার পরেও পুলিশ কেন ডাকাতি মামলা না নিয়ে চুরি মামলা নিলো সেটা বুঝতে পারছিনা। পূর্বে দায়েরকৃত মামলায় মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার না করায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে আমার উপর বারবার হামলা এবং বাসায় ডাকাতির মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। পুলিশ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে, অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।


