নিজস্ব প্রতিবেদক: আকবরশাহে দুটি বাসায় চুরির ঘটনায় একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি করা স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফেনীর সোনাগাজীর জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪৫), নওগাঁ সদর এলাকার মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭), চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৪৩), কুমিল্লার দাউদকান্দির মোহাম্মদ আলী (৪৩), কুমিল্লার মুরাদনগরের দেবব্রত বণিক ওরফে বলাই বণিক (৩৭), ফেনী সদর এলাকার মো. ইসমাইল (৩৩) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির ফারজানা বেগম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে আকবরশাহ থানার সিটি গেট এলাকায় ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়া ও তার স্ত্রী চিকিৎসকের কাছে গেলে তাদের বাসায় চুরি হয়। প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, দরজার হুক কাটা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। স্টিলের আলমারি ভেঙে চোরেরা ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল ও একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স নিয়ে যায়।একই সময়ে পাশের বাসার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের বাসাতেও চুরি হয়। সেখান থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, এক ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং মুঠোফোন চুরি করা হয়।
এ ঘটনায় আলমগীর মিয়া বাদী হয়ে ৩১ জুলাই আকবরশাহ থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৪ ও ৩৮০ ধারায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে ৬ আগস্ট ডবলমুরিং এলাকা থেকে জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪৫) ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠুকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট কোতোয়ালী এলাকা থেকে সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩) ও দেবব্রত বণিক ওরফে বলাই বণিককে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়।পরে ১০ আগস্ট ডবলমুরিং এলাকা থেকে মো. ইসমাইলকে (৩৩) এবং ১৯ আগস্ট একই এলাকা থেকে ফারজানা বেগমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে স্বর্ণ মাপার একটি নিক্তি এবং চালভর্তি একটি ড্রামের মধ্যে পলিথিনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে ওই টাকা পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কোতোয়ালী থানার তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও একটি আংটিসহ সাত ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি স্যামসাং মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সেতু দাস, জসিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন হোসেনের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ছয়টি, ছয়টি ও নয়টি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, সেতু দাস, জসিম উদ্দিন, মোস্তাকিন হোসেন, মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


