সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০২৬
spot_img

ঘোষণা স্ক্র্যাপ পেপার, চট্টগ্রাম বন্দরে মিলল ৮.২৫ টন তামাক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরে অন্যের প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আমদানি করা একটি চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটির কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’।
ঘোষণার বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে দুটি হাউজ বিল অব ল্যান্ডিং বা বি/ এল এর আওতায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া যায়।
এনবিআর জানায়, এমভি উদ্দিপন এক্সপ্রেস জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বি/এল এর দুটি হাউজ বি/এল এর মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়। প্রথম হাউজ বি/এল এ পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘পান মশলা এবং জর্দা’। এতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি দেখানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডার্ক ব্রাউন রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, ব্রাউন রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, গ্রে রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে।
এনবিআর জানায়, কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় এসব সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এসব পদার্থে মাদকদ্রব্য বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই পদার্থগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় হাউজ বি/ এল এ পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘ প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় এসব প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।
ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এনবিআর জানায়, চালানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নথিতে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথয় এন্টারপ্রাইজের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত। চালানটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততাও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র তার প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে এই চালানটি এনেছে। প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।
এনবিআর জানায়, সিআইআইডিএর কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্য, আমদানির ঘোষণা এবং আমদানি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃতি এবং আমদানির পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত চলছে। সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থের পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে সেগুলোর প্রকৃত পরিচয়ও নিশ্চিত হবে।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...
spot_img