শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
spot_img

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

অনলাইন ডেস্ক: আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশে সাধারণ ছুটি। বন্ধ রয়েছে দেশের সব তফশিলি ব্যাংক ও তৈরি পোশাক কারখানা।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

এর আগে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অবিস্মরণীয় একটি দিন এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হয়েছিল। এ সময় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেদিন সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে। অতীত নিয়ে অনবরত পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাস ভুলে যাওয়াও ঠিক নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।

ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের মসজিদগুলোতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার ও কিশোর সংশোধনাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবার পরিবেশনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের শিশু পার্কগুলো শিশুদের জন্য দিনব্যাপী বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান। পাশাপাশি সিনেমা হল ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবস্থায় প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে সিপাহি ও জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান।

পরবর্তী সময়ে দিনটি বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও ইতিহাসচর্চায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...
spot_img