নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কবলে পড়েছে এ অঞ্চলের চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি ফেনী নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলা। কোন কোন জেলার সবগুলো উপজেলা-ই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ । সহায় সম্পত্তি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উজান থেকে আগত পানি ও ভারী বর্ষণ-দুটো মিলিত হয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত মানুষের জান-মাল রক্ষায় প্রত্যেক জেলা প্রশাসন উদ্ধার কার্যের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। প্রত্যেক জেলার জেলা তথ্য অফিস জনসচেতনতায় ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি জেলার সদর মহালছড়ি দীঘিনালা পানছড়ি রামগড় মাটিরাঙা মানিকছড়ি লক্ষীছড়ি গুইমারা প্রভৃতি উপজেলা এ পর্যন্ত ২৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ৩৩ হাজার ৫১২ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭১৮ জন। দুর্গত মানুষের জন্য ৫০২ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৩০ মে. টন চাল, ৪৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা। আজ পর্যন্ত এ জেলায় ৩৬২ মে.টন চাল ও ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। এ জেলায় ৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৯ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার সদর, রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় পানি বাড়ছে। মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ছাত্র প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট, অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ চলমান রয়েছে।
ফেনী : ফেনী জেলার ফুলগাজী পরশুরাম ছাগলনাইয়া সদর সোনাগাজী দাগনভূঁঞা প্রভৃতি উপজেলার ১৯ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজারের বেশি মানুষ। জেলায় ৮০০ মে. টন চাল, ৩২ লক্ষ টাকা, ২৯৯৮ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২৫০ মে. টন চাল, ২২ লক্ষ টাকা, ২৯৯৮ প্যাকেট শুকনো খাবার। এ জেলার ফুলগাজী উপজেলায় ১ জন মারা গেছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কুমিল্লা : কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে এ পর্যন্ত ১২টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৬১টি পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬ শত জন। জেলায় ৫৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে ৯৪টি মেডিকেল টিম। এ জেলায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মে.টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার মে.টন। নগদ ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।