শনিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৫
spot_img

বাবাহীন এক বছর

সজল দাশ:সময়টা ৩১ জানুয়ারি ২০২৪। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু বিশ্রামের জন্য শরীরটা বিছানায় ছেড়ে দিলাম পরের দিনে তাড়া ছিল তাই। কে জানতো ? গেল ৩১ জানুয়ারির শীতের রাতটা সারা জীবন আমাকে স্মৃতিতে বয়ে বেড়াতে হবে। দিনের আলো ফোটার আগেই অনেকগুলো কল এসেছিল আমার মোবাইলে। আমি মায়ের কলগুলো সে সময় রিসিভ করতে পারিনি। বড় ভাই যখন বারবার কল দিচ্ছিল আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, আমি কিছুটা আঁচ করলাম। বাবা স্বার্গীয় রায়মোহন দাশ আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিল কিন্তু এতোটুকু অসুস্থ ছিল না যে, তাকে খুব তাড়াতাড়ি যেতে হবে।এইরকম একটা শীতের দিনে বাবা আমাদের ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন সেই পরপারে। গেল ৩১ জানুয়ারী বাবার চির বিদায়ের একবছর র্পূণ হল। দেখতে দেখতে বাবাহীন একটি বছর চলেই গেল। কত স্মৃতি, কত গল্প, কত আনন্দ- বেদনার প্রতিচ্ছবি এই মনে ঢেউ তুলে। তার মাঝেই উঁকি মারে বাবার প্রাণহীন অবয়বখানা। বাবার জীবনের পুরো গল্পটাই আমার অজানা। জানতে পারেনি অনেক কিছুই কিংবা কখনো তিনি নিজেও বুঝতে দেননি যে, তিনি কেমন। সারাটা জীবন বাবা শুধু বয়ে নিয়েছেন সংসারের গ্লানি। শেষ বিকেলে বাবার সাথে অনেক কিছুই শেয়ার করা হয়নি, বলা হয়নি অনেক কথা তাই আজও বাবাকে খুঁজে ফিরি না বলা গল্প শোনানোর জন্য। বাবার শৈশব এবং কৈশোর সম্পর্কে তেমন কিছুই জানিনা। যেটুকু জেনেছি তাহা কেবলই একটা সরলরেখায় পথ চলা। অভাব অনটনের সংসারে বাবা নিজের পিতা মাতার সংসার ত্যাগ করেন ছোট বয়সেই।
শুনেছি ১৪ বছর বয়সে বাবা তার জন্মস্থান সন্দ্বীপ ছেড়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বসবাস শুরু করেন। একসময় মাছ ধরার ট্রলারে শ্রমিক হিসাবে কাজ করলেও জীবিকার সন্ধানে শ্রমজীবী হিসেবে বাবা লেবারের খাতায় নাম লেখান। এভাবেই বাবার জীবন সংগ্রাম শুরু। নিরক্ষর বাবা হয়েও তিনি তার সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে না পারলেও স্বশিক্ষিত করেছেন। স্মৃতিবহুল জীবন যুদ্ধে বাবা কখনো সমতলে, পাহাড়ে, জলে -জঙ্গলে কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। বাবা আমাকে স্বভাবতই আলাদা চোখে দেখতেন আর তাই হয়তো বাবার আশীর্বাদে আমার এই পর্যন্ত আসা। নামী-দামী পোশাক, অহংকারী মনোভাব কিংবা র্কাপুন্যতা কোন কিছুই বাবাকে স্পর্শ করতে পারেননি। নিজের বাবা মাকে হারিয়ে ভাইরা যে যার মত করে সংসার শুরু করলে বাবা বিয়ের পর তার শ্বশুর বাড়িতেই নতুন জীবন শুরু করেন। অন্যায় সহ্য করতে না পেরে অল্প রাগারাগিতেই তিনি আমরা ছোট থাকতেই শশুর বাড়ির সীমানা ত্যাগ করেন। কষ্টার্জিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বাবা তার সন্তানদের মানুষ করার চেষ্ঠা করেছেন।। পুলিশের চাকরিতে সারাদিন ব্যস্ত থাকাই সময়ের অভাবে শেষ দিকে বাবার চোখের চিকিৎসা টা করাতে না পারা আমাকে সারা জীবন কষ্ট দিবে। পৃথিবীর সমস্ত বাবারাই এমন নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করে সন্তানের সুখ কামনা করে ,আমার বাবা ও তাই করেছেন। আমি জানিনা , আমি কতটুকু আত্মতৃপ্তি দিতে পেরেছি। তবে আমি যে বটবৃক্ষের ছায়াতলে জীবনের অভাব-অনটন, সুখ-দুঃখ জীবনের প্রতিচছবি দেখেছি তা আজ শূন্য। জীবদ্দশায় রেখে যাওয়া বাবার অসংখ্য গুণোগ্রাহীকে কখনো যদি মনের অজান্তে বাবা কষ্ট দিয়ে থাকেন আমরা তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। ফেলে আসা স্মৃতিতে বাবা সবর্দা বিচরণ করুক এমনটাই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা। লেখক ঃ সজল দাশ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশুগঞ্জথানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা

সাতকানিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধ যুগের বেশি সময় পর...
spot_img