শনিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৫
spot_img

‘বুদ্ধি বলে বাড়াও, প্রেম বলে হারাও

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী : কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ইসলাম আছে কেতাবে, মুসলিম আছে গোস্তানে’। যে ইসলামের আদর্শ কোরআন কেতাবে আছে, সে আদর্শ আজকের মুসলিম সমাজ অণুসরণে ব্যর্থ। সাহবায়েকেরাম যে আদর্শ ধারণ করেছিলেন, সে আদর্শ জান্নাতুল মুয়াল্লা, জান্নাতুল বাকিতে শুয়ে আছে। সে আদর্শ চেতনা আজকে মুসলমানগণ ধারণ করার ক্ষমতা হারিয়েছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। অথচ এদেশের ৯০ ভাগ খাদ্য ভেজাল। তারা নামাজ পড়ে, হজ্ব করে, রোজা রাখে, আবার কেউ কেউ যাকাতও দেয়।
এক জরিপে দেখা গেছে, মুসলিম জাহানের মধ্যেই ধর্মীয় বয়ান ওয়াজ নসিহত বেশি হয়। সবচেয়ে বেশি বয়ান-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে। কিন্তু মুসলমানগণই ইসলামের বিধান পালন করে কম। আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ‘রেহগিয়ে বছমে আঁজা / রুহে বেনালী না রেহি / ফলসাফা রেহগিয়ি তালকিনে গায্যালী না রেহি’। ‘আজান প্রথা আছে, কিন্তু হযরত বেলাল (রা.)’র চেতনা নেই। ঈমাম গাযযালীর দর্শন আছে, কিন্তু তাঁর শিক্ষা নেই। এখন ইসলামের নীতি আদর্শ অমুসলিমগণ যতটুকুব পালন করে মুসলমানগণ ততটুকু পালন করেন না। দুনিয়ার সেরা ধনী বিল গেটস। ধনে নয়, মনেও বড়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমাদের দেশে যার অঢেল টাকা, সে বড় লোক, মনুষ্যত্বের বিষয় আশয়ে নয়।’ বিল গেটস ধনে নয়, মনুষ্যত্বেও ছিল অনেক বড়। তাঁর ২ মেয়ে ১ ছেলে। তিনি তার প্রতি সন্তানকে ১ কোটি করে ডলার প্রদান করে বাকী সমস্ত সম্পদ মানবতার সেবায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অঢেল সম্পত্তির বোঝা তাদের মাথার উপর তুলে দিতে চাননি। যে বোঝা তার সন্তানরা বহন করতে পারবে না। এ সম্পদ সন্তানদের এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রামী চেতনার মৃত্যু ঘটাতে পারে। বিল গেটসের চিন্তা কত বাস্তবসম্মত তা আমরা ভাবতে পারি না বলেই তার উল্টো করছি। এদেশের ধনীর সন্তানরা পিতা মাতার সম্পদ দখল করতে মামলা হামলা রক্তপাত করে। ভাই-বোনের সম্পর্ক নষ্ট হয়। অথচ বিল গেটসের সম্পদ দানের সিদ্ধান্তকে তার তিন সন্তান স্বাগত জানিয়েছে।
বিল গেটস শুধু তাঁর নিজের সম্পত্তি দান করেননি, তিনি ২০১৭ সালে চীনের ধনীদের নিকট মানবতার সেবায় সম্পদ দানের আহ্বান জানালে ১০০ ধনকুবের তাদের সমস্ত সম্পত্তি দান করেন।
মা-বাবার সম্পদের উত্তরাধিকারী না হয়ে ২৩ বছর বয়সে দুনিয়ার সেরা দশ ধনীর একজন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ ব্যতীত কেউ হতে পারেননি। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক হওয়ার সাথে সাথে ঘোষণা করেন, ৯৯ ভাগ তাঁর সম্পদ মানবতার সেবায় উৎসর্গ করবেন।বর্তমান মুসিলম ধনী রাজা বাদশাহরা দেশের এবং দেশের মানুষের সম্পদ লুঠ করে বিদেশে পাঁচার করে। কোন টাকা মানবতার সেবায় দান করার মন তাদের নেই । এদেশে প্রচুর মানুষ ধনী হয় ব্যাংক লুঠ,বিদ্যুৎ পানি গ্যাস চুরি করে। সে সম্পদ অমুসলিম দেশে জমা করে দেশগুলোর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। অমুসলমানগণ যখন নিজের পকেট খালি করে, মানুষের পকেট ভারি করছে তখন মুসলমানগণ অপরের পকেট খালি করে নিজের পকেট ভারি করছে। কবি মীর্জা গালিবের একটি কবিতায় পংক্তি মনে পড়লো ” সকলের তরে আছি আছি আমার হৃদয় খালি / দুই হাতে আমি খুশি বন্টন করি আমার দুই হাত খালি / মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি বলেছেন, ‘বুদ্ধি বলে বাড়াও, প্রেম বলে হারাও’। প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘যিনি মানবতার সেবায় নিজের জীবনকে নিঃশেষে বিলিয়ে দেন, তিনি মহামানব।’। এখন আমরা মহামানব খুঁজি না, সাধারণ মানুষ খুঁজি। উপকারী মানুষ খুঁজি না, অপকার করে না এমন মানুষ খুঁজি। উপরে টেনে তুলার মানুষ চাই না ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে না এমন মানুষ খুঁজি। এ ধরনের মানুষ পাওয়াও আজ দুস্কর। এখন মানুষ নিজের স্বার্থে সবকিছু করতে পারে। স্বার্থপরের পাল্লা নিজের দিকে ঝুকে। আমরা পৃথিবীটাকে নরক বানিয়ে স্বর্গে যেতে চাই। আমরা বুঝতে চাই না, দুনিয়াটা ঠিক না থাকলে পরকালটা ঠিক থাকে না। ফুলসিরাত কোথায়? ফুলসিরাত আখিরাতে নয়, দুনিয়াতে। দুনিয়ার ফুলসিরাত ‘সত্য পথ’।দুনিয়ার সরল সঠিক পথ যদি পার হতে না পারি তাহলে পরকালের ফুলসিরাত কখনো পার হতে পারবো না । সুরা ফাতিহায় বর্ণিত সরল সঠিক পথই ফুলসিরাত। এই পথ যে ব্যক্তি সঠিক ভাবে অতিক্রম করতে পারছে তার পরকালের সব স্টেশন অতিক্রমে বাধা থাকবে না। জান্নাত- জাহান্নাম দুনিয়ায় অর্জিত হয়। পরকালে শুধু ভোগ করবে। তাই মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করছেন, ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতে হাসানা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি দুনিয়ার কল্যাণ দাও এবং আখিরাতের কল্যাণ দান করো। এখানে আল্লাহ পাক আগে দুনিয়ার কল্যাণের কথা বলেছেন, আখিরাতের কথা পরে উল্লেখ করেছেন। দুনিয়ার জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও বড় অর্থপূর্ণ। দুনিয়াটা ঠিক রাখতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।আমরা দুনিয়ায় পাপ করতে করতে এক সময় ভুলে যাই, আমরা মানুষ,আমরা আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা জীব। কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ জানে না তারা মানুষ। এই ছোট্ট ম্যাসেজটি মানুষ জানলে, মানুষ অমানুষের কাজ করতো না। এক সময় ক্ষমতার লোভে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড হতো। যেমন বাদশাহ শাহজাহানের সন্তানদের মধ্যে সংঘটিত হয়। এখন দেখি আমাদের দেশের চব্বিশ বছরের এক মেয়ে। তার মা-বাবা, বোনকে হত্যা করে পুলিশ ডেকে বলে, ‘তিনজনকে হত্যা করছি, তাড়াতাড়ি আসেন, না হয় বাকী দুই জনকেও হত্যা করবো। ঠাণ্ডা মাথায় এধরনের আচরণ আমাদের কী শিখায়। মানবিকতার স্থান পাশবিকতায় দখল করে নিচ্ছে। বাংলাদেশে এখন হত্যাকাণ্ডের ৪০ ভাগই পারিবারিক হত্যাকাণ্ড। চৌকস শিক্ষিত পুলিশ অফিসার পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে হত্যা করে সমস্যা সমাধানের কথা চিন্তা করলেন। আইনের লোক হয়ে আইনের হাত হতে বাঁচতে পারবেন এই চিন্তা মনে আসলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই বলে। আমরা কোভিড হতে মুক্তি পেয়েছি। একদিন এধরনের অনেক রোগ হতে মুক্তি পাবো। কিন্তু পরকীয়ার মত সামাজিক বহু ব্যাধি হতে কী করে মুক্তি পাবো জানি না।
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা

সাতকানিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধ যুগের বেশি সময় পর...
spot_img