অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী জানিয়েছেন ইজারাদাররা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতকানিয়া উপজেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয কমিশনারসহ বিভিন্নস্থানে আবেদন করেছেন এক ইজারাদার। তিনি হলেন সাতকানিয়া পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের ছমদর পাড়ার পশ্চিম ঢেমশা ওয়ার্ডের -মোঃ ইউছুফ আলীর পুত্র নুরুল আমিন। আবেদনে সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণ, অবৈধ দখল ও অনিয়ম রোখ, অবফাঠামোগত : উন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে নুরুল আমিন উল্লেখ করেন, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজারের ইজারা আহ্বানকৃত দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য সর্বোচ্চ ডাক দাাতা হিসেবে তার দাখিলকৃত এক কোটি ছেষটি লক্ষ টাকার দরটি গৃহীত হয় এবং তিনি উক্ত বাজারের বৈধ ইজারাদার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তবে বাজারের সম্পূর্ণ প্রোফাইল (আয়তন, খতিয়ান, ম্যাপ) ও সীমানা দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় ইজারাদার হিসেবে বাজার পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। আবেদনে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, দেওয়ানহাট বাজার এলাকার দৃশ্যমান বহু সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে।
এই সম্পত্তিগুলোর খাস বরাদ্দ/বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া যথাযথ হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবিলম্বে উদ্ধারপূর্বক রাষ্ট্রীয় খাতে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা এবং খাসজমি যথাযথভাবে ব্যবহার করা, বাজার অভ্যন্তরে অযু ও নামাজের ব্যবস্থা, প্রবেশমুখে গেইট ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন,বাজারে প্রবেশপথে লাইটিং, রঙিন বাতি, বাজারের নাম সম্বলিত ডিজিটাল সাইনবোর্ড সংযোজন, ডাস্টবিন (কমপক্ষে ১০টি), মাছ কাটার শ্রমিকদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত স্থান নির্মাণ, বাজারে পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের জন্য পৃথক মূল্যতালিকা সুনির্দিষ্টভাবে দোকানে ঝুলিয়ে প্রদর্শনের বিধান করা, প্রতিটি পাইকারি ট্রাক বা পরিবহন পণ্যভিত্তিক হাসিল প্রদান, যেমন প্রতি কেজিতে ২০/৫০ পয়সা , গাড়ী প্রতি ভ্যান ৫০ টাকা, প্রতি ইলি ১০০ টাকা, প্রতি ট্রাক ৫০০ টাকার হার নির্ধারণ, ভাউচার সরবরাহ ব্যতীত কোনো পণ্য লোড আনলোড করা যাবে না- এই নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর, বাজারে চোরাই পণ্য যেন প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মূলা তালিকাবিহীন দোকান, অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারী ব্যবসায়ী ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত বাজার উন্নয়ন কাজসমূহ যথাযথভাবে তদারকি না হওয়ার কথাও বলা হয়। অন্যদিকে অদক্ষ শ্রমিক, নিম্নমানের উপকরণ, অসমাপ্ত কাজ, এবং দুর্নীতিপূর্ণ ব্যয় ব্যবস্থাপনা বন্ধ করা , সোলার প্যানেল, মিটার, বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের পরও ব্যবহার শুরু না হওয়ায় অনেক উপকরণ ইতিমধ্যেই নষ্ট হওয়া, দোকানগুলোর ঢালাই ও পানি নিষ্কাশনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বিলবোর্ড স্থাপনসহ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
