অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু (২৬,৭৮১ ফুট) অভিযানে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী এবং তানভীর আহমেদ। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর তারা নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মানাসলু অ্যাসেন্ট: ভার্টিক্যাল ডুয়ো শীর্ষক এই অভিযানে এই দুই পর্বতারোহী চেষ্টা করবেন ‘মাউন্টেন অব দ্য স্পিরিট’ খ্যাত চূড়া আরোহণের। মানাসলু পর্বতের অবস্থান নেপালের মানসিরি হিমাল রেঞ্জে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স সভাপতি এবং অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান। বক্তব্য রাখেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ‘সামুদা’-এর চিফ বিজনেস অফিসার বিকাশ কান্তি দাস। সামুদা’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুল আজম এবং এ কে এম মাহমুদুল হাসান। অভিযানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে গিগাবাইট বাংলাদেশ, সিনো ভেস্ট, ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সিয়েরা রোমিও ইন্টারন্যাশনাল এবং চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন।
ডা. বাবর আলী ২০২৪ সালে একই অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট লোৎসে আরোহণ করেছিলেন। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পৃথিবীর দশম সর্বোচ্চ পর্বত অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ করেন। মানাসলু পর্বত বাবর আলীর চতুর্থ ৮ হাজার মিটার পর্বত অভিযান।
বাবর আলী বলেন, ‘এভারেস্ট ও লোৎসে আরোহণের পর থেকে বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটার পর্বত আরোহণের ইচ্ছা রয়েছে। এ বছরের শুরুতে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণের পর মানাসলু অভিযান সে লক্ষ্যের দিকে আরো একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে বাকি পর্বতগুলোর চূড়াও ছুঁতে চেষ্টা করব। তবে মানাসলু অভিযানে তানভীর ভাইকে সহ-অভিযাত্রী হিসেবে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। এতদিন একা ৮ হাজার মিটার পর্বত অভিযানে যেতাম। এবার আমি আর একা নই।’
অন্যদিকে তানভীর আহমেদ ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স ক্লাবের মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আরোহণ করেন হিমালয়ের আমা দাবলাম শিখর। মানাসলু তানভীরের প্রথম ৮ হাজার মিটার পর্বত অভিযান।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীর বলেন, গত বছর ৬৮১২ মিটার উচ্চতার আমা দাবলাম অভিযানের পর থেকে আমি একটা ৮ হাজার মিটার পর্বতে যাবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। বেশিরভাগ পর্বতারোহীই বিশ্বের উঁচু সব পর্বতে দেশের পতাকা হাতে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন। আমিও ব্যতিক্রম নই। আমি মুখিয়ে আছি মানাসলুর শৃঙ্গে লাল-সবুজ পতাকা হাতে দাঁড়ানোর জন্য। উঁচু পর্বতের চ্যালেঞ্জ নিতে আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ সেপ্টেম্বর মানাসলু অভিযানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন এই দুই পর্বতারোহী। পর্বতারোহণের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নানা সরঞ্জাম কেনার কাজ শেষ করে কাঠমান্ডু থেকে বেসিশহরের দিকে রওনা হবেন তারা। দিনকয়েকের ট্রেক শেষ দুই পর্বতারোহী পৌঁছাবেন মানাসলু বেস ক্যাম্পে। মূল অভিযান শুরু হবে এখান থেকেই। বেস ক্যাম্প থেকে উপরের ক্যাম্পগুলোতে উঠানামা করে শরীরকে অতি উচ্চতা ও নিম্ন তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নেবেন দুই অভিযাত্রী। মানাসলু অভিযানে সময় লাগবে প্রায় ১ মাস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় কিংবা শেষ সপ্তাহে চূড়ায় আরোহণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান। অভিযান অপারেটর হিসেবে থাকছে নেপালের স্নোয়ি হরাইজন ট্রেক্স এন্ড এক্সপিডিশন।
