মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
spot_img

বাড়ছে জনসংখ্যা কমছে মানুষ

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী : উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ‘খুদি কো কর বুলন্দ ইত না/ কি হার তাকদির ছে পহলে / খোদা বান্দেছে খোদ পুছে / বাতা তেরী রেজা কিয়া হ্যায়”।
অর্থাৎ তোমার ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে বিকশিত কর যে তোমার ভাগ্য লেখার আগে স্বয়ং আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, বল বন্দা হে, তোমার ভাগ্যে কী লিখব?
মানুষ আশলাফুল মাখলুকাত সৃষ্টির সেরাজীব। মানুষকে মহাল আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন মর্যাদাবান করে। এই মানুষের রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি। মানুষের মগজ-মস্তিষ্ক শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আধুনিক বিজ্ঞানের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলভার্ট আইনস্টাইন কে। আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক ছিল দেড় লিটার, লর্ড বায়রনের ছিল আড়াই লিটার। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের মস্তিষ্ক দেড় লিটারের অধিক। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, একটি কম্পিউটারের দাম যদি হয় পঞ্চাশ হাজার টাকা তাহলে দেড় লিটার মস্তিষ্কের দাম হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অধিক। প্রতিটি মানুষের কাছে আছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অধিক সম্পদ আছে কিন্তু আমরা তা জানি না।আল্লাহ পাক এ পৃথিবীতে কাউকে গরিব করে পাঠাননি, প্রতিটি মানুষকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অধিক সম্পদ দিয়ে পাঠিয়েছেন, অথচ আমরা গরিব। মানুষ কত বড়? প্রতিটি মানুষ তাঁর স্বপ্নের চেয়ে অনেক অনেক বড়। কখন মানুষের মৃত্যু? যখন মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু হয়। নব প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানো আমার প্রধান কাজ।
একটা ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ সর্বোচ্চ ২৫ ভাগ শিক্ষাতে পারে; বাকী শিক্ষা ছাত্ররা নিজেই শিখতে হয়। শিক্ষকদের মূল কাজ শিখানো নয়, স্বপ্ন দেখানো, পথ দেখানো।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘আমরা যা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না তা-ই স্বপ্ন। শিক্ষকগণ সে স্বপ্নের ফেরীওয়ালা। তাঁরা শুধু শিখায় না ভিতরে ভিতরে নিমার্ণও করেন।কে বড় হয়? যার বিশ্বাস আছে, ইচ্ছা আছে বড় হবার সে-ই বড় হয়।অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী দেখেছি, প্রচুর মেধা থাকার পরও বড় হননি। কারণ তাদের প্রচণ্ড ইচ্ছা ছিলনা বড় হবার। আত্মবিশ্বাসই মানুষকে বড় করে। মুসলমানগণ বলেন, ঈমান (বিশ্বাস) মূল। পৃথিবীর মাধ্য বিশ্বাসী অবিশ্বাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রাচীন কাল হতে চলে এসেছে। বিশ্বাসীদের বিজয়ের কারণেই আধুনিক সভ্যতার জন্ম। মানব সভ্যতার প্রতিটি বিস্ময়কর সৃষ্টির আগে অবিশ্বাসীরা বলেছিল সম্ভব নয়। বিশ্বাসীরাই কঠোর সাধনায় প্রমাণ করেছিল সম্ভব। আত্মবিশ্বাসীরা এগিয়ে গেছে এবং সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে দিয়েছেন। তাই মহান আল্লাহ পাক এক মহা শক্তি। সাধারণ শক্তির ওপর বিশ্বাস করার কারণে বিজ্ঞানীরা বহু কিছু আবিস্কার করে বিশ্বকে করেছেন পরিবর্তন।আর মহাশক্তি (মহান আল্লাহ)’র ওপর বিশ্বাস স্থাপনের ফলে ঘটাতে পারে মহা পরিবর্তন।
বিশ্বাসের কারণেই একসময় মুসলমান জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল পৃথিবীর সেরা। সমগ্র বিশ্ব যখন মধ্যযুগের অন্ধকারে বাস করছিল তখন মুসলমানদের জন্য অঙ্গকার যুগ ছিল না। তখন পৃথিবীর সেরা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খলিফা হারুনুর রশীদ (৭৮৬-৮০৯) নাম ‘খিজানাতুল হিকমা’ বা জ্ঞান গ্রন্থাগার। তারপর খলিফা মামুনুর রশীদ প্রতিষ্ঠা করেন বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউশন নাম ‘বাতুল হিকমা’ বা জ্ঞান বিজ্ঞানের গ্রন্থাগার (৮১৩-৮৩৩খ্রীঃ)।পরবর্তীতে হালাকু খাঁ বাগদাদ নগরী দখল করে বাইতুল হিকমাতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয়।
আজ মুসলমানদের জন্য মধ্যযুগ। এখন মাদ্রাসাগুলো হতে কী রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের মত ব্যক্তি বের হয়? আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনুল হাইসাম, গণিতবিদ আলজাবের, চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সীনা, জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক আল বিরুনীর মত লোক মাদ্রাসা হতে বের হয় না কেন চিন্তা করতে হবে। তাদের মত শত মনীষী জ্ঞানের আলোয় ৮০০ শত বছর মুসলমানরা দাপটের সাথে বিশ্ব সভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করেছে। সে সভ্যতা আজকের আধুনিক সভ্যতার মধ্যে অনেক পার্থক্য। বর্তমান সভ্যতায় ‘মানুষ’ শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মানব সম্পদ।সম্পদের মধ্যে সেরা সম্পদ মানব সম্পদ। সবচেয়ে সেরা শক্তি ‘মানব শক্তি’।মানব সম্পদের যুগে মানবিক শক্তির মানুষ আজ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। বাড়ছে জনসংখ্যা কমছে আজ মানুষ। জনশক্তি বাড়ছে মানবিক ও মানসিক শক্তি কমছে। জ্ঞান আর এখন মানসিক ও মানবিক শক্তি নয়। আমাদের শিক্ষা আছে, শিক্ষা ব্যবস্থা আছে, শিক্ষা নীতি আছে, আছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা। সরকারি, বেসরকারি, দরকারী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ প্রতিষ্ঠিত আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে শত শত শিক্ষার জন্য অফিস। জ্ঞানের পরিধি যাচাইয়ের জন্য আছে অনেক পরীক্ষা পদ্ধতি। বিশ্বে শিক্ষার দ্বার আজ উন্মুক্ত। কিন্তু নেই মনুষ্যত্বের শিক্ষা। যে শিক্ষার বাজার চাহিদা নেই সে শিক্ষা শিখতে কেউই আজ আগ্রহী নয়। বিশ্ব বিজ্ঞান প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে বছর বছর কমছে বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী। বড়ছে বাণিজ্যের ছাত্র-ছাত্রী। একজন লেখক নব প্রজন্মের নাম দিয়েছেন ‘বিবিএ জেনারেশন’। ড. জাফর ইকবাল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের চার কোটি ছাত্র-ছাত্রী আছে। পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৩০-৩৫ লক্ষ। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের যদি সঠিক শিক্ষা দিতে পারি তাহলে দেশটা এমনিতেই দাঁড়িয়ে যাবে’।
আজকের ছাত্র-ছাত্রীরা আগামীর ভবিষ্যত। এই ভবিষ্যত গড়ার মূল সময় হাচ্ছে বর্তমান। বর্তমানকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা মহাকালের যাত্রী।’ অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের ওপার আছে মহাকাল। মানুষই মহাকালের যাত্রী।পূর্ণ ক্ষমতা ব‍্যবহার করতে পারলে মানুষ মহাকালের নেতৃত্ব দিতে পারবে।তাই মানুষ গঠনই বড় কাজ।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জাওয়াহেল লাল নেহরু বলেছেন, আগামীর ভারত কেমন হবে তা ক্লাস রুমে নির্ধারণ হয়ে যায়। বাংলাশের ক্ষেত্রেও তাই।
এই দুনিয়ায় বাঘ সিংহসহ অনেক হিংস্র প্রাণী আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছে, যাদের শারীরিক শক্তি মানুষের চেয়ে অনেক বেশী। কিন্তু সেগুলো পশু। মানুষকে মেধা প্রদান করেছেন, তাই মেধাবীকে সম্মান করে মহান আল্লাহ পাক মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মেধার কারণে ইবলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদম (আ.) কে সিজদা করতে। অথচ ইবলিশ ছিল ইবাদতে বড়। সে মেধাবী মানুষ যদি তার মস্তিষ্ককে ব্যবহার না করে তাহলে সে পশুর চেয়ে অধম। কারণ সে আল্লাহ প্রদত্ত মস্তিষ্ককে অপমান করেছে।লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img