সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেড (একেএসএমএল) কারখানায় সংঘবদ্ধ হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সাতজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. জামাল (৩৮), রমজান আলী (২৮), মো. রনি (২০), মো. এছহাক (৪৮), আরশাদুর রহমান (২০), মো. আলাউদ্দিন (৪৮) ও মো. খোকন (৩০)। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। এদিকে হামলার ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, একেএস স্টিল কারখানায় হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জনের সংঘবদ্ধ একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর চৌধুরীঘাটা আবুল খায়ের স্টীল মেন্টিং লিমিটেড ফ্যাক্টরীতে হামলা চালায়। এ সময় তারা কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচ প্রহরীকে মারধর করে আহত করে। দুর্বৃত্তরা কারখানার প্রধান ফটকের নিরাপত্তা বক্স ও একটি পিকআপ গাড়ী (নং-চট্ট মেট্রো-ম- ১১-১৩২৫) ভাঙচুর করে এবং প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার কারখানার শিফট ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা (নং-৩৫) দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, সীতাকুণ্ডের শিতলপুর বগুলা বাজারের মো বোরহানের পুত্র মোঃ রাজিব প্রকাশ বাইল্ল্যা (৩৫), মো. রাজু (৩০), মান্না (৩৩), মো. আব্দুর রহিমের পুত্র রবিউল হোসেন (৩৩), মোঃ বাছা মিয়া (২০), শাহ আলমের পুত্র মোঃ ইমন-১, আবুল কালামের পুত্র সুমন (১৯), মো. দৌলা মিয়ার পুত্র ইমন – ২, -মো. সেলিমের পুত্র রাকিব (২০), পিতা, ১০। মো. সাইফুলের পুত্র মো. ফারুক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আহত ক্ষতেন ত্রিপুরা ও আবদুল মোতালেব বলেন, সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল গেট ও অফিস ভেঙে লুটপাট শুরু করে। এসময় ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। ডাকাতের হামলার তারাসহ কারখানার কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আবুল খায়ের গ্রুপের ডিজিএম ও এইচআরএডমিনের ইনচার্জ ইমরুল কাদের ভূঁইয়ার মুঠোফোনে বলেন, ২৫ থেকে ৩০ জনের সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী একটি ডাকাত দল কারখানায় এসে লুটপাটের চেষ্টা চালায়।এসময় মিলের শ্রমিকরা এলাকাবাসীর ডাকাত প্রতিরোধে সহযোগিতা চাইলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। পরে ডাকাতরা পিছুহটে।


