আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। কাতারের রাজধানী দোহায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দের পাশাপাশি উত্তর পারস্য উপসাগরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইরানের কোম শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কাতার, ইরান ও ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরা।বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে নিরাপত্তার খাতিরে দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছিল কাতার প্রশাসন। গত শনিবার থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি যুদ্ধের প্রভাবে এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর দোহাতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।এদিকে উত্তর পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের সমর্থক কোনো ইউরোপীয় দেশের সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহভাজন জাহাজ দেখলেই আঘাত করা হবে।
অন্যদিকে ইরানের কোম শহরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র অবিচাই আদ্রাই জানান, কোম শহরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা থেকে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া ইসফাহান শহরে ইরানের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমিয়ে আকাশসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোই এই হামলার মূল লক্ষ্য।বিগত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো। দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটেও সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে।সার্বিক পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


