রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬
spot_img

নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার জমজমাট, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে গেলেও ব্যাংকগুলোতে এবার নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগে নতুন নোট ছাড়েনি বলে ব্যাংকগুলোতেও নতুন নোট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে এর বিপরীতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার।ঈদে সালামি হিসেবে ছোট-বড় সবাই টাকা দেয় আর নেয়। সেই টাকার নোট যদি নতুন হয় তাহলে তো কথা নেই। আনন্দ বহুগুনে বেড়ে যায়।
সরেজমিনে জানা গেছে,চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশপাশ, সিডিএ ভবনের সামনে এবং কোর্ট হিল এলাকার রাস্তার পাশে ফুটপাতে নতুন টাকার এমন অস্থায়ী দোকান দেখা যায়। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, এসব স্থানে নতুন নোটের বেচাকেনাও তত বাড়ছে।
যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ঈদ উপলক্ষে নতুন টাকা ব্যবসা। কারও কারও বাবা-দাদার ব্যবসা ছিল এটা। ব্যাংক থেকে বিকল্প পথে অধিক টাকায় কিনতে হচ্ছে নতুন টাকা। এমন না যে; ব্যাংকগুলো টাকা বিপরীতে টাকা, নতুন নোট দিচ্ছে। হাজারে দেড়শ থেকে দুইশত টাকা বেশি দিয়ে কিনে সেই টাকা বিক্রি হচ্ছে আরও লাভে। আর ব্যাংকে না পেয়ে গ্রাহকরা বাধ্য হচ্ছে অধিক দামে নতুন টাকা কেনার জন্য।
চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট ও কোর্ট বিল্ডিং এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১০ টাকার নতুন নোট এক হাজার টাকার বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা বেশিতে, ২০ টাকা নোটের বান্ডেল ২৫০ বেশিতে, ৫০ টাকার নোটের বান্ডেল ৩৫০ বেশিতে, ১০০ টাকার নোটের বান্ডেল ৪০০ টাকা বেশিতে, ৫ টাকার নোটের বান্ডেল ১৮০ টাকা বেশিতে, দুই টাকার নোটের বান্ডেল ৮০ বেশিতে। প্রতিটি বান্ডেলে একশত পিস করে নতুন নোট থাকে। সে হিসেবে ১০ টাকার নোটের বান্ডেলে থাকে এক হাজার টাকা। ২০ টাকার নোটের বান্ডেলে থাকে দুই হাজার টাকা। ৫০ টাকার নোটের বান্ডেল থাকে পাঁচ হাজার টাকা আর ১০০ টাকার নোটের বান্ডেলে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। রাস্তার ধারের নতুন টাকার বাজারে ১০ টাকা নোটের বান্ডের দামই সবচেয়ে বেশি কারণ এ টাকার চাহিদাও বেশি রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।
এদিকে নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে ফুটপাতে নতুন টাকার ব্যবসা করছেন আল আমিন। তার সামনে সাজানো রয়েছে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল। অতিরিক্ত টাকা দিলেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন নোট। তিনি জানান, তাদের কাছে নিয়মিত নতুন টাকার সরবরাহকারী রয়েছে। তারা বেশি দামে টাকা কিনে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১০ টাকার নোটের। ২০ টাকার নোটেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে এই দুই মানের নোটের ব্যবসা তুলনামূলক বেশি লাভজনক। তবে অনেক সময় ১০ টাকার এক হাজার টাকার বান্ডিল দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, নতুন টাকার চাহিদা সারা বছর কিছুটা থাকলেও ঈদের সময় তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জাকাত দেওয়া, সালামি দেওয়া কিংবা আত্মীয়স্বজনকে উপহার দেওয়ার জন্য অনেকেই নতুন নোট কিনে থাকেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ঈদের সালামি হিসেবে কড়কড়ে নোটের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
কয়েকজন নতুন টাকার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের দৈনিক এক থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রি হয়। দৈনিক দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ থাকে। নতুন টাকার এ ব্যবসা সপ্তাহ খানেক চলে। বিশেষ করে রোজার ঈদে নতুন টাকা চাহিদা থাকে। পরে আর থাকে না। কোরবানির সময়ও কিছু বিক্রি হয় তবে তেমন উল্লেখ্যযোগ্য নয়।
গত বৃহস্পতিবার নতুন টাকা কিনতে আসা নুর আলম নাামে একজন ব্যবসায়ি বলেন, ব্যাংকে টাকা চেয়েও পাইনি। তাই অতিরিক্ত দাম দিয়ে নতুন টাকার নোট নিতে হয়েছে। ঈদ সালামির জন্য নতুন নোট দেব। তাই এখান থেকে বেশি দামে সংগ্রহ করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, নতুন টাকা না পাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের দিতে পারি না। কিন্তু রাস্তার ধারে সেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে বের করে শাস্তির আওতায় আনা দরকার এসব টাকা ব্যবসায়ি ও পাচারকারীদের।

 

 

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img