নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম থেকেই মহান স্বাধীনতার ডাক এসেছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস ধরে যে যুদ্ধ করেছিলেন সে জন্য কৃতজ্ঞতার দাবীদার সেটি কখনো জানিয়ে শেষ করা যাবেনা। এ জন্য চট্টগ্রাম গৌরবের জায়গা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তি/ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ের যারা রয়েছি তারা প্রত্যেকে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের। মহান স্বাধীনতাকে কিভাবে দেখলাম, আপনাদের কাছ থেকে কি শেখলাম-তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে না পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সফল হবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমাদের এখন সময় এসে গেছে। আগামীতে বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ট বসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে শ্রেষ্ট রাষ্ট্রের মর্যাদা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সফিজুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়সাল আহমদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম। গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচএম জিলানী চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দাশ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নিরস্ত্র বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে গণহত্যা চালায়, যা আমরা ‘কালো রাত’ হিসেবে জানি। গণহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মত্যাগ শহিদী মর্যাদা এনে দেয়। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাকে ব্রত ধারণ করে সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। শহীদদের ত্যাগ এবং সাহস আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। এ দিনটি আমাদের ইতিহাসের সত্য উদঘাটন করে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব দেয়। গণহত্যার স্মৃতিকে ধরে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এটি শুধুমাত্র অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও বয়ে আনে। সভায় বিভিন্ন বক্তারা বীর শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।


