খবর বিজ্ঞপ্তি: কৃষ্টি মূলত বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের মিলনমেলা ঘটাতে, বিশেষত বাঙালির চিরায়ত কৃষ্টি চর্চায় প্রতিবন্ধী মানুষদের সব সময় উৎসাহিত করতে চায়। কিন্তু বাঙালির চিরায়ত এ কৃষ্টি চর্চায় আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী জনগণ একেবারেই বিচ্ছিন্ন। আর তাই আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে কৃষ্টি তার জন্মলগ্ন থেকেই প্রতি বৎসর চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এই সাংস্কৃতিক চর্চাবোধ প্রতিবন্ধী মানুষদের মধ্যে জাগ্রত করতেই তাদের স্বতস্ফুর্ত সম্পৃক্ততায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া সংক্রান্তি উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের এক মিলন মেলা গড়ে উঠলো।
প্রতিবন্ধী মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশে এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিবারের ন্যায় এ বছরেও আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণে সঙ্গীতের মুর্ছনায় মেতে উঠতে একত্রিত হয়েছিল আজ সোমবার চেরাগী পাহাড় মোড়ে। এ আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী মানুষ ও তাদের সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ আলী, নির্বাহী পরিচালক, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম এনজিও সমন্বয়ক- চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য কৃষ্টি অনেক কাজ করছে। কৃষ্টির সভাপতি সাবরিনা সুলতানা প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধী মানুষদের কাজ করছে। কৃষ্টির প্রতি তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
মোঃ জাহেদুল ইসলাম শিক্ষক, স্বপ্নবাগিচা বিদ্যালয়, বলেন সবাই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিন্তু কেও চিন্তা করে না এখানে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে এনে তাদেরকেও অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ দিতে। প্রতিবন্ধীরাও যে মানুষ এটা আমরা ভুলে যায়। সুযোগ দিলে তারাও সবকিছু পারে এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। স্বপ্নবাগিচা বিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে কৃষ্টিকে যুক্ত করার আশা ব্যক্ত করেন।
এডভোকেট ভুলন ভৌমিক- প্রতিবন্ধী মানুষদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ছড়িয়ে দিতে কৃষ্টি প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব পালন করে। সবার মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা থাকতে হবে। তবেই জাতির মেধা বিকশিত হবে। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। প্রতিবন্ধীরাও যে মানুষ এটা আমরা স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করি। প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী রূপম মজুমদার এবং কবিতা আবৃত্তি করেন রূপশ্রী দাশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে মোঃ সাজিদুল ইসলাম।


