অনরাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পার হয়েছে। ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রামের কিছু মহৎপ্রাণ সমাজহিতৈষি ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শিশুবর্ষ উপলক্ষে এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্রপরিসরে শুধুমাত্র শিশুস্বাস্থ্য বহির্বিভাগের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি একটি বিশাল মহীরুহ হিসেবে চট্টগ্রামের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। চিকিৎসাসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর প্রতিষ্ঠানটিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ‘স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা’ পদকে ভূষিত করছে।
চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালকে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক প্রদানের জন্য মনোনীত করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জেলা স্টেডিয়ামস্থ জিমনেসিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলার মঞ্চে পদক প্রদান করা হবে।এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পদক গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ১০৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি ও এএমইউ সার্ভিস, ব্লাডব্যাংক, লাশবাহী ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, সাধারণ এম্বুলেন্স ও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং ল্যাবরেটরি সার্ভিসসহ জরুরি সেবা চালু রয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে- চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল; চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ; চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট; চমাশিহা শামসুন নাহার খান নার্সিং কলেজ; চমাশিহা অটিজম অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার; চমাশিহা ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার; চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট।
এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে আছে, রাউজানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল বৃদ্ধ নিবাস, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল অটিজম হোম অ্যান্ড ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়; চমাশিহা নিউরোসাইন্স ইনস্টিটিউট।
মেগাপ্রকল্প ১০৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। পুরাতন হাসপাতাল ভবন থেকে সকল বিভাগ নতুন হাসপাতাল ভবনে আরও বর্ধিত পরিসরে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন ভবনে একই কমপাউন্ডে ল্যাবরেটরি কমপ্লেক্স, ব্লাড ব্যাংক, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগ থাকার কারণে রোগীরা সহজে সেবা পাচ্ছেন।
বর্তমানে এই ভবনে ৪২ শয্যার এনআইসিইউ সহ ৮২ শয্যার অত্যাধুনিক নিউনেটাল ওয়ার্ড, ৫০ শয্যার শিশু আইসিইউ ওয়ার্ড, ৩৩ শয্যার অত্যাধুনিক আইসিইউ, ক্যাথল্যাবসহ ৩৪ শয্যার সিসিইউ, অত্যাধুনিক লেবার কমপ্লেক্সসহ গাইনী ওয়ার্ড সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ৮ তলা থেকে ১১ তলা পর্যন্ত মোট ১১৫টি কেবিন চালু করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য হাসপাতালে ৫১২০ কেভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং ১২৫০ কেভিএ একটি ১১৫০ কেভিএ একটি ও ৬৫০ কেভিএ একটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।
ক্যান্সার হাসপাতালে বিশ্বের সর্বাধুনিক লিয়েনার অ্যাক্সিলারেটর রেডিওথেরাপি মেশিন, অত্যাধুনিক সিটি সিমুলেটরসহ সকল যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী এখানে রেডিওথেরাপি সেবা পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে ৯৭০ জন রোগীকে রেডিওথেরাপি সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপিসহ ওয়ানস্টপ চিকিৎসা সেবা চালু আছে। ক্যান্সার ভবনের ৫ম তলায় ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা অনকো ক্রিটিক্যাল কেয়ার (ক্যান্সার রোগীদের জন্য আইসিইউ) চালু করা হয়েছে। ক্যান্সার হাসপাতালে বর্তমানে শয্যা সংখ্যা ৭৫টি। চট্টগ্রামের রোগীরা এখন খুব সহজে এবং কম খরচে এখানে অত্যাধুনিক মেশিনে রেডিওথেরাপি সেবা নিতে পারছেন। করোনাকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল চট্টগ্রামবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছে।


