বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
spot_img

৯ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে এখন ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রায় বাইরে থাকা যেমন কষ্টকর, বাসায় থাকাও দায় হয়ে পড়েছে।লোডশেডিংয়ে নগরজীবন অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাসা-বাড়িতে ওয়াসার পানিও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি এখন বন্ধ।এরইমধ্যে মধ্যে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিবছর পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষাবোর্ড থেকে এ বছর কোনও নির্দেশনা ছিল না।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নগরের বাকলিয়া এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ৫ থেকে ৬ বার। এ সময় এক থেকে আধঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। শুধু বাকলিয়া নয়, নগরের প্রায় সব এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এর ঠিক ১১ দিনের মাথায় ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন লোডশেডিং দাঁড়ায় ২৮২ মেগাওয়াটে। অল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ২২ গুণ। অবশ্য সে সময় চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদনও ছিল কম। গত ৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৪০৮ মেগাওয়াট, ১৪ এপ্রিলে উৎপাদন নেমে আসে মাত্র ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াটে, যা অর্ধেকেরও কম। গত ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৩৮ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ১৪৮ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার ৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কম পাচ্ছি। তাই বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে লোডশেডিং। চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। তা সরাসরি চট্টগ্রামে ব্যবহারের সুযোগ নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে যা বিতরণ করা হয় সেটিই পায় চট্টগ্রামের বাসিন্দারা’।
বাড়তি উৎপাদন করেও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না চট্টগ্রাম
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে মোট ২৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে গ্যাস, জ্বালানি ও কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় গত ২ এপ্রিল বন্ধ ছিল ৫টি কেন্দ্র। এইদিন ২৩টি কেন্দ্র উৎপাদন করেছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২১৭ মেগাওয়াট। একইসময়ে ১ হাজার ৪৫২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিপরীতে পেয়েছিল ১ হাজার ৩৭৬ মেগাওয়াট। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল ২০টি কেন্দ্র উৎপাদন করেছে ২ হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ পেয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ মেগাওয়াট।
বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র
চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে এখন ৯টি বন্ধ রয়েছে, সচল রয়েছে ১৯টি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নগরীতে। আর বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)। গত ১৮ এপ্রিল সচল কেন্দ্রের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৯টিতে। এই দিনে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল ৯টি কেন্দ্র। মাসের শুরুতে ৩ হাজার ২১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ১৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২ হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন।
জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের মধ্যে আশার আলো দেখিয়েছিল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র। কিন্তু সেখানেও কমেছে উৎপাদন। সর্বশেষ বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট উৎপাদন করেছে সর্বোচ্চ ৫৮৬ মেগাওয়াট। দুই সপ্তাহ আগে কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৬৪ মেগাওয়াট।
বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর তালিকায় রয়েছে দীর্ঘদিনের অচল রাউজান-১ ও রাউজান-২ (২১০ মেগাওয়াট প্রতিটি)। এছাড়া সচল আছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ২টি (ইউনিট ২ ও ৫)। বাকি ইউনিট-১, ৩ এবং ৪ পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে পুরোপুরি বন্ধ। বেসরকারি খাতের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে জুডিয়াক, জুলদা-২ এবং জুলদা-৩ থেকে উৎপাদন হচ্ছে না বিদ্যুৎ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে নেতিবাচক প্রভাব। যেমন: ১৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারেনি টেকনাফ সোলার কেন্দ্রটি।
গরম যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ঘাটতি
চট্টগ্রামে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং একাধিক এলাকায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে আবাসিক খাতে ফ্যান, এসি ও কুলিং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। কৃষিতে বোরো সেচের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাতেও বৈদ্যুতিক জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ লাফিয়ে বাড়লেও উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলেই লোডশেডিং বাড়ছে।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img