নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ। নির্মাণের ১১ বছর পরও সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ইট বসিয়ে জোড়াতালির মেরামত করা হয়। যা সামান্য বৃষ্টিতেই উঠে গিয়ে সৃষ্টি করছে বড় বড় গর্ত। তবে দ্রুত সময়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।এই সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং পার্বত্য জেলার সঙ্গে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সংযোগ পথ। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনন্যা আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও পুরো সড়কের কাঠামোই ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে অক্সিজেন মোড়, কয়লার ঘর, নয়া হাট ও ওয়াজেদিয়া এলাকায় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক স্থানে যানবাহন উল্টো লেনে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটিতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থেকে দ্রæত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়, পরে তা গর্তে পরিণত হয়। বিভিন্ন সময়ে যানবাহন উল্টে এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কটি সংস্কারে সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশন কারো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রিডার্স স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে খুব খারাপ দশা। স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বড় বড় গর্তে যানবাহন উল্টে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের বেশিরভাগ অংশে ড্রেন না থাকায় আশেপাশের প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়।
জানা যায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারীর কুয়াইশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৩ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১৫ সালে শেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে বিভিন্ন জটিলতায় এখনো এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেনি সিডিএ। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটির অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
২০০৫ সালে নগরের চান্দগাঁও ও কুয়াইশের ১৬৯ একর জায়গার ওপর ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে অনন্যা আবাসিক প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ১১ বছরে সেখানে আশপাশে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলসহ ১০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল অবস্থার জন্য আশপাশের প্রায় ১ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে আছেন।
জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, প্রায় ১১ বছর আগে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করে তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর না করা দুঃখজনক। সম্প্রতি আমরা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বসেছি। আমাদের কথা হয়েছে, সিডিএ সড়কটি সংস্কার করে সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করবে। এরপর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে।তিনি আরো বলেন, সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে সার্ভে কাজ শুরু হয়েছে। সার্ভে করে সড়কের ভাঙা অংশে আমরা মেরামত কাজ শুরু করবো।


