নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক শুল্কায়ন কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় এক রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৯০০ কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১৪ তলা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ভবন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কাস্টমস হাউসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য ভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস এবং ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে কাস্টমস হাউসের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে এই ভবনের দুটি ফ্লোরে পরিচালিত হবে। তিন বছরের জন্য ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা। চেম্বারের পক্ষে চেম্বার প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস মোহাম্মদ শফি উদ্দিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের অনারারী কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট শেখ আবু ফয়সল মো. মুরাদ, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন’র সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
নতুন ভবনটি নির্মিত হবে বর্তমান ১৯৫৮ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে একই স্থানে। এটি আন্তর্জাতিক মানের ‘গ্রিন বিল্ডিং’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে টেকসই নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। ভবনটিতে থাকবে তিনটি বেজমেন্ট, যা পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করবে। এছাড়া চারপাশে থাকবে সবুজায়ন ও নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং।
অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভবনটি হবে অত্যন্ত উন্নত। পুরো স্থাপনাটি একটি সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটেড) বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় পরিচালিত হবে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে থাকবে আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার। এছাড়া সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং, উন্নত অগ্নি নির্বাপণ ও সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, একাধিক যাত্রী ও কার্গো লিফট, নিজস্ব সাবস্টেশন এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর ব্যাকআপ নিশ্চিত করা হবে।কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে ভবনটিতে থাকবে ব্যাংক বুথ, হেল্পডেস্ক, লাইব্রেরি, আর্কাইভ, মিউজিয়াম, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার এবং একটি আধুনিক মসজিদ।
দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ শুল্কায়ন এই কাস্টমস হাউস থেকে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ঠিকাদার নিয়োগের পর ২৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানান্তর এবং পরবর্তীতে আধুনিক নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়বে। এতে জটিলতা কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


