অনরাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন— শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।প্রধানমন্ত্রী এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিতে হবে।এ লক্ষ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।’
গবেষণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। তিনি মেধা ও অ্যাকাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষা শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার, ভাষাভিত্তিক বিষয়সমূহে সরকারি চাকরিতে কোড অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন বিভাগ চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময় উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উন্মুক্ত সংলাপ দেশের উচ্চশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


