বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
spot_img

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

অনলাইন ডেস্ক:কথায় আছে, ‘ইচ্ছাশক্তি থাকলে পাহাড়ও ডিঙানো যায়।’ আর সেই অদম্য ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার ফুলঝড়ি বেগম প্রমাণ করলেন-শেখার কোনো বয়স নেই।তিনি ৪০ বছর বয়সে এসেও শুধু গৃহিনী নন, একজন পরীক্ষার্থীও। চলমান এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় নিজের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
পরীক্ষার্থী ফুলঝড়ি বেগম (৪০) লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক নজরুল ইসলামে স্ত্রী এবং মো. মনিরুল ইসলাম (১৫) তার ছেলে।লালপুর উপজেলার মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে মা ও ছেলে দুজনেই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।তাদের পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে মধুবাড়ি দাখিল মাদরাসায়। একই বেঞ্চে না বসলেও, একই কক্ষ বা একই দিনে পরীক্ষা দিতে যাওয়াটা এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছেলের চোখে মা কেবল একজন জন্মদাত্রী নন, এখন তিনি সহযোদ্ধাও। ছেলে মনিরুল ইসলাম উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানায়, ‘মা আমাদের জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন। আজ মা আমার সাথে পরীক্ষা দিচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি চাই মা তার পড়াশোনা চালিয়ে যাক।’
জানা যায়, ফুলঝড়ির জীবনের গল্পটা আর ১০টা সাধারণ গ্রামীণ নারীর মতোই শুরু হয়েছিল। অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল তাকে। এরপর সংসার, সন্তান আর অভাবের টানাপড়েনে বই-খাতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। স্বামী নজরুল ইসলামের সীমিত আয়ে সন্তানদের বড় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। বড় মেয়ে এখন নার্সিং শেষ করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে কর্মরত।
এদিকে বড় মেয়ে স্বাবলম্বী হতেই ফুলঝড়ির মনের সুপ্ত বাসনা সেই পড়াশোনার ইচ্ছেটা আবার ডানা মেলে। তিনি বলেন, কখনো ভাবিনি এই বয়সে এসে আবার পরীক্ষার হলে বসব। ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় আনন্দের। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
ভ্যান চালিয়ে এবং দিনমজুরি করে সংসার চালানো নজরুল ইসলাম স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে পাহাড়ের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিক্ষিত মা-ই পারেন একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে তিনি বাধা হতে চান না। স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, আমার সাধ্যমত স্ত্রী ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগান দেব। নিজে পড়ালেখা করতে পারিনি ঠিকই কিন্তু স্ত্রী-সন্তান চাইলে তাদের পাশে থাকবো এবং সহযোগিতা করব।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ এই ঘটনাকে নারী শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ফুলঝড়ি বেগম প্রমাণ করেছেন বয়স শিক্ষার পথে কোনো দেয়াল হতে পারে না। উপজেলা প্রশাসন তার এই সাহসিকতার পাশে থাকবে।

 

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img