পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের মেলঘরে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় এক ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিরিচ, দা ও লোহার রড দিয়ে হামলা, মারধর এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. লেয়াকত আলী এসকান্দর (৪৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেলঘর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে মাটি কেটে আসছিলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করায় ব্যবসায়ী মো. লেয়াকত আলীর ওপর ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্তরা। গত ১১ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বাবুলের বাড়ির সামনে তাঁর গতিরোধ করে একদল সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা কিরিচ ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে, এতে তাঁর পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায়। এসময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার ৩৫২ টাকা ও সোয়া লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে আসা রেজাউল করিম সাকিব নামে আরও এক ব্যক্তিকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

জানা গেছে, একই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ পরিদর্শন শেষে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন পটিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ওবায়দুল হক লিকু, বড়লিয়া ইউনিয়নের সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুল মন্নান তালুকদার এবং সাবেক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ হাবিব। পথিমধ্যে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওত পেতে থাকা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হাতকাটা জাহাঙ্গীর, তার ছেলে জিহান ও নাজিম উদ্দিনসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা পেছন থেকে দৌড়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আব্দুল মন্নান তালুকদারের মাথায় সজোরে আঘাত করে। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি অলৌকিকভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন পটিয়া উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি। প্রবীণ ও সিনিয়র নেতাদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পরও তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার না করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী লেয়াকত আলী জানান, আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন ভুয়া অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালাচ্ছে।এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দমনে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


