নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে। শনিবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্ত্বরে আয়োজিত সচেতনতামূলক র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। র্যালিটি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আন্দরকিল্লা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো সার্জারী) ডা. অজয় দাশ ও বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জাবেদ, আগ্রাবাদস্থ সরকারী মেডিকেল সাব-ডিপোর ম্যানেজার ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ এমএসএফ, ব্র্যাক, আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক-কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীগণ র্যালিতে অংশ নেন। র্যালি শেষে হাসপাতালের নালায় ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে ছিটিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার।
র্যালি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
র্যালি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এয়ার কন্ডিশনার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারী শেল ও পরিস্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। হাসপাতাল, ঘর ও আশপাশের যে কোন পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিস্কার করলে এডিস মশার লার্ভা মরে যায়। জীবন বাঁচানোর জন্য যেকোন উপায়ে এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই।


