ক্রীড়া ডেস্ক : চার বছর আগে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ইতিহাস গড়ল কাতার। গ্রুপ ‘বি’-এর অন্যতম ফেবারিট সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের নাটকীয় ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।শনিবার (১৩ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে ৬৭ হাজার ৯৬৬ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইনজুরি টাইমের সমতাসূচক গোলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কাতারের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। বুয়ালেম খুখির হেড থেকে আসা বল সুইস ডিফেন্ডার মিরো মুহাইমের গায়ে লেগে জালে জড়ালে গোলটি পরে আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।
২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল কাতার। ফলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ড্র তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকল।ম্যাচ শেষে কাতার কোচ হুলেন লোপেতেগি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে আসাটাই ছিল আমাদের একটি স্বপ্ন। আজ আমরা আরেকটি ছোট স্বপ্ন পূরণ করেছি। এখনো আমাদের সামনে স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আমরা বিশ্বাস করেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি, লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত তার পুরস্কার পেয়েছি।’
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ব্রিল এম্বোলো। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দলে যোগ দেওয়া এই স্ট্রাইকার ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠান।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে সুইজারল্যান্ড। তারা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে কাতারও হাল ছাড়েনি। গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কাতার আক্রমণের গতি বাড়ায়। তবে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল এদমিলসন জুনিয়র ও আহমেদ আলাউদ্দিনের প্রচেষ্টা রুখে দেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ডান দিক থেকে আসা এক ক্রসে বুয়ালেম খুখি সবচেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন। বলটি মিরো মুহাইমের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে গেলে ১-১ সমতায় ফেরে কাতার।
গোলের পর আনন্দে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন কাতারি ফুটবলার। সতীর্থদের আলিঙ্গনে উদযাপিত হয় তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
অন্যদিকে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ সুইজারল্যান্ড। দলটির অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বলেন, ‘আমরা নিজেদের দিকেই আঙুল তুলছি। আজকের পারফরম্যান্স জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।’
সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অনেক ভালো সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। হয়তো আমরা যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত বা নিখুঁত ছিলাম না। এই ড্র আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।’মিডফিল্ডার ডেনিস জাকারিয়াও স্বীকার করেছেন, সুযোগ নষ্টের খেসারতই দিতে হয়েছে তাদের।
এই ফলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন আত্মবিশ্বাস পেল কাতার। ২০২২ সালের হতাশা ভুলে এবার তারা সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আগামী শুক্রবার কাতারের প্রতিপক্ষ কানাডা, আর সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।


