নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতিতে এসেছে বর্ষা। পহেলা আষাঢ় শুদ্ধতার ঋতু বর্ষাকে আবাহন জানিয়ে বাচিক শিল্প চর্চা কেন্দ্র তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আয়োজন করেছে নান্দনিক বর্ষাবরণ।সোমবার (১৫ জুন) ১৫তম বারের মতো চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ বর্ষাবরণ অনুষ্ঠানে যেন বর্ষা নেমে এসেছিলেন গানে, আবেগে, কবিতায় ও নৃত্যের ছন্দে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী, সংস্কৃতিজন এবং দা নীড এপারেলস (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান রিয়াজ ওয়ায়েজ। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নাট্যজন ও সংগঠক সজল চৌধুরী এবং বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা চট্টগ্রাম এর সহ সভাপতি অনন্য বড়ুয়া।
আবৃত্তিশিল্পী কারিশমা কবির ঐশীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস সভাপতি ভাগ্যধন বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটু তলাপাত্র মিঠু।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বাংলা সংস্কৃতি, ঋতুভিত্তিক উৎসব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প-সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে ধারণ করে এমন আয়োজন সমাজে সৌন্দর্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রথম পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করে আয়োজক সংগঠন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। সংগীত পরিবেশন করে মূর্চ্ছনা সঙ্গীত একাডেমি এবং নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্য নিকেতন। পরবর্তী পর্বগুলোতে আবৃত্তি পরিবেশন করেন রাজেশ্বরী চৌধুরী, শর্মিলি বণিক, সুস্মিতা দাশ, জুয়েনা আফসানা ও তন্বী ঘোষ নন্দী। তাঁদের আবৃত্তিতে উঠে আসে বর্ষা, প্রকৃতি, প্রেম, মানবতা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ।
সংগীত পরিবেশন করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, সুরানন্দ ছোটদের সঙ্গীত জগৎ, অদিতি সঙ্গীত নিকেতন, অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন, সুরধারা এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকগান এবং বর্ষাকেন্দ্রিক বিভিন্ন গানের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। একই সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যরূপ একাডেমি, চারুতা নৃত্যকলা একাডেমি, নৃত্যময়ী একাডেমি, মাধুরী নৃত্যকলা একাডেমি এবং সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউট। রঙিন পোশাক, সুনিপুণ কোরিওগ্রাফি ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় নৃত্যশিল্পীরা বর্ষার রূপ ও আবেগকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলেন।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের ছিল স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাহিত্যপ্রেমী ও তরুণদের অংশগ্রহণে মিলনায়তন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের সম্মিলিত পরিবেশনায় বর্ষাকে বরণ করার পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির চিরায়ত সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যও নতুন করে উদ্ভাসিত হয়।


