নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক টানা রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।রোববার (১৯ জুলাই) টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে বৃষ্টি-পরবর্তী সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মেয়র প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের কাছে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি এবং সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।মেয়র বলেন, সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
কোনোভাবেই সংস্কার কাজে বিলম্ব করা যাবে না। সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নগরের সৌন্দর্যবর্ধনেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
নগরকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে ১০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় কর্মকর্তারা মেয়রকে জানান, নগরের বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান ও আইল্যান্ডে লাগানো গাছের সুরক্ষার জন্য স্থাপিত রেলিং প্রায়ই চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পথচারীদের অসচেতন চলাচল এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে অনেক গাছ নষ্ট হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো টেকসই করতে হবে। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে মিডিয়ান আইল্যান্ডের রেলিং সহজে চুরি করা না যায় এবং লাগানো গাছগুলো নিরাপদ থাকে।
এ সময় প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা লোহার পরিবর্তে ফেরোসিমেন্ট অথবা ফাইবার দিয়ে মিডিয়ান আইল্যান্ডের সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মেয়র প্রধান প্রকৌশলীকে আগ্রাবাদ এলাকায় এক কিলোমিটারজুড়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে ফেরোসিমেন্ট ও ফাইবার—কোনটি বেশি সাশ্রয়ী, টেকসই ও কার্যকর হবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন। সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত মিডিয়ান আইল্যান্ডে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যালিং নির্মাণের নির্দেশনা দেন।এ সময় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ডাস্টবিন স্থাপন প্রয়োজন।
মেয়র এ বিষয়ে ৫ হাজার বড় এবং ৫ হাজার ছোট ডাস্টবিন সংগ্রহ ও পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় স্থাপনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদারের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রতিদিনের কার্যক্রম শেষে ককশিট, পলিথিন, প্যাকেজিং সামগ্রীসহ কোনো ধরনের বর্জ্য সড়ক, নালা বা খালে না ফেলে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।


