চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই নারী বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামাই পলাতক।সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের আকমল বলির বাড়ির আবু ছালেহের (৩২) সঙ্গে চন্দনাইশের রিমি আক্তারের (২৮) বিয়ে হয়। বর্তমানে রিমি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কয়েক মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় আবু ছালেহ নিয়মিত শ্বশুরবাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার রাতে শাশুড়ি মুন্নি আক্তার (৫৫) ও আবু ছালেহের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে রিমি আক্তার দেখতে পান, তার স্বামী ঘরে নেই। পরে মায়ের কক্ষে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত মুন্নি আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিমি আক্তার অভিযোগ করেন, তার মা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে তার স্বামী আবু ছালেহ এবং শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমকে আসামি করে চন্দনাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাদের আটকের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


