বোয়ালখালী প্রতিনিধি: সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ, শিল্প-সাহিত্যের প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সৃজনশীল মনন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আজ বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নব দিগন্ত’-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে গুণীজন সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, তবলা লহড়া, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী।বোয়ালখালী কানুনগোপাড়া নন্দনপার্ক কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবদিগন্ত প্রতিষ্ঠাতা বাসন্তী আচার্য্য। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রবীর পাল।

সংগঠনের সদস্য প্রিয়নজিৎ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় এ আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সুরকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উত্তম কুমার আচার্য্য। এসময় তিনি বলেন, সংগীতের ইতিহাস প্রাচীন। প্রায় ২০০০ খ্রীস্ট পূর্ব থেকে সংগীতের যাত্রা শুরু। বাংলার লোক জীবনের সুখ, দু:খ, আনন্দ বেদনা, উৎসব ব্যসনে সংগীত জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এর চর্চা ও প্রসার মানুষের মনকে মানবিক বোধে উদ্দীপ্ত করে। সুন্দর জীবনের জন্য সংগীত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শেখ সাদী এবং বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক সব্যসাচী রনী। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও আর্য্য সঙ্গীত সমিতির প্রশিক্ষক প্রত্যয় বড়ুয়া অভি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সঙ্গীত প্রশিক্ষক নোবেল আচার্য্য ও চিত্রাংকন প্রশিক্ষক সুকুমার ধর।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধনা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট তবলাশিল্পী ও প্রশিক্ষক ঝুলন দত্ত, গীতিকবি, সাহিত্যিক ও গবেষক মাসুম খান এবং বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক সংগীতা দত্ত-কে।
আয়োজনে সংগীত, নৃত্য, তবলা এবং চিত্রকলার সমন্বয়ে এ আয়োজন শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চায় আরও সম্পৃক্ত করার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।


