মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
spot_img

গ্রিস যাওয়ার পথে ১১ দিন সাগরে ভেসে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিসে যাওয়ার পথে খাবার ও পানি ছাড়া প্রায় ১১ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর একটি নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি। তার দাবি, মৃতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি। তবে মিশরের পুলিশ এখনো সাগরে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি।মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন বলেন, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশির নাম আবদুল করিম। তিনি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। যাত্রার কিছু সময় পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর নৌকাটি সাগরে ভেসে থাকতে থাকে।
প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অনেকেই তখন অচেতন ছিলেন। বর্তমানে তারা পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
আবদুল করিম দূতাবাসকে জানিয়েছেন, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় এবং প্রচণ্ড গরমে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি। পরে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও করিম একই তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য, নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও তাতে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল। নৌকাটিতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন।
দীর্ঘ সময় সাগরে থাকায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের শারীরিক অবস্থাও গুরুতর বলে জানান করিম। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে থাকায় অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়েছে।
তবে মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি মিশরের পুলিশ। কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘মিশরের পুলিশ এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য আমরা অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
এদিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচ যুবকের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তারা হলেন পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা।
হৃদয় পালের চাচা কানন পাল বলেন, গত ৩১ জুলাই হৃদয়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট তিনি গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ওই দিন লিবিয়া থেকে দুটি নৌকা ছেড়েছিল। পরে প্রথম নৌকায় থাকা একজন পরিবারের সদস্যদের জানান, হৃদয় দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img