শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
spot_img

মিমি সুপার মার্কেটে কৌশলে স্বর্ণ আত্মসাত, গ্রেফতার-৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বর্ণের বাক্সে হুবহু সাজানো চুড়ি। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই আসল নাকি নকল। কিন্তু দোকান বন্ধের আগে হিসাব মেলাতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাক্সে থাকা চুড়িগুলো স্বর্ণের নয়। সবই ইমিটেশন অর্থাৎ নকল। কৌশলে আসল স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে সেখানে নকল গহনা রেখে দিয়েছিলেন দোকানেরই দীর্ঘদিনের এক কর্মচারী। এ ঘটনায় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি স্বর্ণালংকার। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নগরের মিমি সুপার মার্কেটের নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স থেকে এসব স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক গত ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় দোকানে ১২-১৩ বছর কর্মরত সেলসম্যান রোমেন দে কে।
গত ১৪ আগস্ট দোকানের বার্ষিক স্টক মেলানোর সময় কয়েকটি স্বর্ণের গহনার বাক্সে অস্বাভাবিকতা নজরে আসে। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সাতটি চুড়ির বাক্সে থাকা ৫৩টি আসল স্বর্ণের চুড়ি নেই। সেসবের পরিবর্তে রাখা হয়েছে নকল ইমিটেশনের গহনা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কৌশলে দোকান থেকে সরে পড়েন রোমেন।
পুলিশের তদন্তে রোমেনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর গত ১৮ আগস্ট রাতে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রোমেন আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রাখার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালখালী থেকে বন্ধকী ব্যবসায়ী শ্যামল সিংহ (৪৭)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শ্যামলকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ আগস্ট নগরের কোতোয়ালি, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানে মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স, সাহা জুয়েলার্স, মডার্ন রিনা জুয়েলার্স, শাহ আমানত জুয়েলার্স, ফেন্সী জুয়েলার্স ও তাজমহল জুয়েলার্সসহ বিভিন্ন বন্ধকী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় চক্রের আরও চার সদস্য—জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলারি দোকানে কাজ করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোমেন পরিকল্পিতভাবে আসল স্বর্ণ সরিয়ে তার জায়গায় নকল গহনা রেখে দেন। পরে আত্মসাৎ করা স্বর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রেখে অর্থ নেওয়া হয়।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img