বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
spot_img

মোস্তফা কামাল যাত্রার আত্মকথন “নিরাময়ী নাট্যক্রিয়া : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” 

ইয়াকিন হায়দার :

প্রশ্নমালা ১। বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যচর্চার সূত্রপাত ও বিকাশ কীভাবে ঘটেছে? ২। কোন কোন ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠান এই চর্চার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে? ৩। নিরাময়ী নাট্যচর্চায় কী কী পদ্ধতি বা কৌশল ব্যবহৃত হয়? বাংলাদেশে কোন কোন পদ্ধতি বা কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং কারা কখন তা কাদের সাথে করেছে?

বাংলাদেশে বিগত তিন দশকের অধিক সময় ধরে নিরাময়ী নাট্যচর্চার ধারা প্রবাহমান থাকলেও, এখন পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রাপথ বা প্রায়োগিক ইতিহাস নিয়ে কোনো বিশেষ সমীক্ষামূলক গবেষণা-নিবন্ধ  রচিত হয়নি। দীর্ঘদিনের এই চর্চা মূলত মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ এবং বিচ্ছিন্ন কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল; বিদ্যায়তনিক বা গবেষণার আলোয় একে সামগ্রিকভাবে দেখার প্রয়াস ছিল অপ্রতুল। এই অভাব পূরণ করা এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য একটি প্রামাণ্য ভিত্তি তৈরি করা এই গবেষণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। আশা করি আপনার মূলবান উত্তর দিয়ে এই গবেষণাটি সফল করবেন।


প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যচর্চার সূত্রপাত ও বিকাশ কীভাবে ঘটেছে? 
উত্তর : আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চারুকলা বিভাগ এর নাট্যকলা শাখা (১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষ) এর ছাত্র ছিলাম। বিভাগের ছাত্র থাকাকালিন ১৯৯৩ সালে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত TDR নামক একটি পত্রিকায় Psychodrama নিয়ে ছাপাকৃত একটি লেখা পড়ি। তারও আগে আব্দুল্লাহ হেল মাহমুদ সম্পাদিত “নাটক” নামক একটি নাট্যপত্রিকায় জ্যামাইকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সাইকোড্রামার প্রয়োগ নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়েছিলাম। যা স্মৃতিতে ম্লান হয়ে গেলেও; চারুকলা বিভাগের সেমিনারে পড়া রিচার্ড শেখনার সম্পাদিত TDR পত্রিকার সাইকোড্রামা নিয়ে লেখাটি পড়ে এই ধারার নাট্যক্রিয়া সম্পর্কে উৎসাহী হয়ে উঠি।নাট্যকলা বিষয়ের তৎকালীন সিলেবাসে এই ধারার নাট্যতত্ত্ব পাঠ্যক্রমভুক্ত ছিল না। আমাদের বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক নাট্টযুধিষ্ঠীর জিয়া হায়দার, কামালউদ্দীন নীলু এবং রহমত আলী স্যারও ব্যক্তিগত আলোচনায় এই প্রসঙ্গে কোন তথ্য-উপাত্ত দিতে পারেন নাই।


সেসময় আমাদের ইউরোপিয়ান নাটক এর ইতিহাস ও নাটক বিষয়ক তাত্ত্বিক কোর্সটি পড়াতেন ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ স্যার। উনার সাথে এই প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় উনি জানালেন আমি যেন ইন্টারনেট এর সহযোগিতা নিয়ে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার বা বোঝার চেষ্টা করি।
বিল্লাহ স্যারের কথা মত জিইসি মোড়ের এক ইন্টারনেট ক্যাফেতে ঘন্টার ৩০০ টাকা মূল্য দিয়ে ঘাটাঘাটি করে যা পেয়েছিলাম: তা প্রিন্ট নিয়ে এ বিষয়ক পড়াশুনা শুরু করি। জানতে পারি ড. হার্ব প্রপার সম্পর্কে। যিনি তখন ASGPP এর বোর্ড মেম্বার ছিলেন। তাঁর সাথে ইমেলে যোগাযোগ করি। তিনি আমার আগ্রহ দেখে ইমেলে আরো সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস, ভিডিও এবং এই বিষয়ে কাজ করেন, পড়ান এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেটওয়ার্কিং করেন তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। কালক্রমে ব্যক্তিগতভাবে থেরাপিউটিক থিয়েটার জগৎ এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকের সাথে পরিচিত হতে থাকি। তাদের কাজ ও কর্ম ভাবনা নিয়ে জানতে থাকি।


নাট্যকলার শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯৪ সাল থেকেই দেশের বিভিন্ন নাট্যদলের সাথে অভিনয় বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করতাম। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমার তত্ত্ববধানে পরিচালিত নাট্য কর্মশালা গুলোতে আমি সাইকোড্রামার প্রয়োগশৈলীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন টুলস গুলো প্রশিক্ষনার্থীদের অনুশীলন করাতে থাকি এবং আমি আবিস্কার করি যে- অভিনয়ের সাইকোএনালাইটিক মেথড এর সীমাবদ্ধতা অর্থাৎ সাইকোড্রামার রোল এবং স্তানিসলাভস্কির ক্যারেক্টার এর মধ্যে যে- সাদৃশ্য ও বৈচিত্রতা অনুধাবন করি। যা আমাকে দিয়েছিল অভিনয় এর ক্ষেত্রে এক নতুন দীক্ষা।


প্রথমত, এটাই ছিল বাংলাদেশে নিরাময়ী বা থেরাপিউটিক থিয়েটার এর প্রয়োগ প্রক্রিয়ার সূত্রপাত বা প্রারম্ভিক অনুশীলন তথা চর্চার শুভ আরম্ভ।এই ধারার নাট্যশৈলী নিয়ে ব্যপক পঠণ-পাঠণ এর পাশাপাশি প্রযুক্ত টুলস গুলো প্রয়োগের ছবি ও অভিজ্ঞতাসমূহ ইমেলে ড. হার্বসহ অন্যদের পাঠাতে থাকি। এতে তারা উৎসাহী হয়ে আমাকে ASGPP এর একজন শিক্ষার্থী সদস্য হিসেবে মনোনীত করে ১৯৯৬ সালে। সদস্যভর্তি ও নিবন্ধন ফি হিসেবে তখন ১৫০ ডলার আমাকে অনুদান হিসেবে আমার পক্ষে জমা দিয়েছিল ড. হার্ব প্রপার। তাঁর নিয়মিত উৎসাহ ও যোগাযোগ এবং ASGPP এর সদস্য ফোরাম গ্রুপের পেইজ এ আমার কাজের ছবি, ভিডিও, প্রতিবেদন এর পোষ্ট থেরাপিউটিক থিয়েটার চর্চাকারিদের সাথে আমার বৈশ্বিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।


১৯৯৭ সালে যখন নাট্য সংস্থা ‘ইউনাইট থিয়েটার’ (ইউনিট থিয়েটার কনসেপ্ট অনুসারে পরিচালিত) প্রতিষ্ঠা হয় তখন তার আওতায় গঠন করা হয়েছিল- লক্ষজনগোষ্ঠিক বেসকিছু ‘থেরাপিউটিক থিয়েটার ইউনিট’। ‘ইউনিট থিয়েটার কনসেপ্ট’ এ “ইউনাইট থিয়েটার” এর আওতায় গঠিত সেইসব থেরাপিউটিক ইউনিটের সর্বপ্রথম কাজ শুরু হেয়েছিল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ARK এর আবাসিক আসক্ত ব্যক্তিদের সাথে। তারপর পযায়ক্রমে SOS পরিচালিত শিশু ও যুব পল্লীর এতিম শিশু ও যুবক, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কর্মরত মূক ও বধির শিশু শিক্ষা কেন্দ্র: সাহিক ও ??, মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কর্মরত সুইড-চট্টগ্রাম কেন্দ্র, CDC, নারচার, ইপসা, ওয়ান্ড ভিশন বাংলাদেশ- চট্টগ্রাম এডিপি ও ইউসেপ বাংলাদেশ আমবাগান কেন্দ্র এর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে।


১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম এ পরিচালিত সমাজসেবার রুট লেভেল, মুরাদপুর এর আশ্রয় ও শিক্ষাকেন্দ্রসহ আসক্ত ব্যক্তি, এতিম শিশু ও যুব এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের সাথে নিরাময়ী নাট্য বিশেষত সাইকোড্রামার টুলস গুলো ব্যবহার করতে গিয়ে আমার যে প্রয়োগ সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছিল – তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ মনোবিশ্লেষকদের নিয়মিত ইমেল ছবি-ভিডিওসহ জানাতাম এবং তাদের মূল্যায়ন ও ইতিবাচক প্রেষণা পেতাম- তা আমাকে নিরাময়ী নাট্য প্রয়োগে সুদক্ষ অনুশীলক এ পরিনত করে।
ইতিমধ্যে আমার পরিচালিত কর্মশালা (১৯৯৪-১৯৯৬) থেকে লক্ষ্য জনগোষ্ঠী ভিত্তিক প্রয়োগ (১৯৯৭-২০০১) বাংলাদেশের নিরাময়ী নাট্যের অনুশীলন ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রের বিকাশে একটি পথরেখা গড়ে তুলতে থাকে।
আমার ব্যক্তিগত পঠন পাঠন (১৯৯৩-২০০১) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সুপারভিশন আমার এই বিষয়ক তাত্ত্বিক সক্ষমতা যেভাবে বৃদ্ধি করেছিল: সেভাবে ১৯৯৪ থেকে ২০০১ পর্যন্ত কর্মশালা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রয়োগ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যের সূত্রপাত থেকে বিকাশের ক্ষেত্র রচনা করেছিল- এক শিক্ষা ও শিখনের অভিযাত্রা।


এই অভিযাত্রায় আমার নাট্যকলার সহপাঠী ও গ্রুপ থিয়েটার এর নাট্যবন্ধুদের উৎসাহ-উদ্দীপনা এমনকি প্রয়োগশৈলীতে অংশগ্রহণকারিগন আমাকে করেছিল সমৃদ্ধ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মঞ্চ মুকুট এর ফারহানা পারভীন প্রীতি, তীযক এর নাজু-সাজু; সমীকরণ থিয়েটার এর রাহেলা-সাহেলা এবং থিয়েটার ইউনিট সমূহের জনাব জোবাইদুর রহমান, মাশরুজ্জামান মুকুট, শামীম আহম্মেদ, শাহ আলম, আলী নাসের, সাজেদা আক্তার সাজু, রেজা আজিজ, আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল ইসলাম মুন্নাসহ প্রমুখ ইউনিট থিয়েটার এক্টিভিস্টবৃন্দ।
সকলের নাম এখানে উল্লেখ করা না হলেও তাদের শ্রদ্ধভরে স্মরণ করছি- আমার এই নিরাময়ী নাট্য অভিযাত্রার সহযাত্রী হওয়ার জন্য। যা সেই ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সালের মে মাস পর্যন্ত ছিল বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যের একটি সমৃদ্ধময় সাংগঠনিক পর্ব।
দ্বিতীয় পর্বটির সূত্রপাত হয়েছিল- ‘ইউনাইট থিয়েটার’ নামক মনবিশ্লেষক নাট্যসংস্থর তত্ত্বাবধানে। যে সংস্থা পরিবর্তিত নাম “ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশ্যাল অ্যাকশন (UTSA/উৎস)” হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই পর্বে উৎস (UTSA) আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ActionAid এর অর্থায়নে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ২০০১ সালে শুরু করেছিল একটি প্রকল্প (Project)। যার টাইটেল ছিল – “TTCD (Theatre Therapy Center for the Disabled)। এটি ধারাবাহিকভাবে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল। এই নিরাময়ী নাট্য প্রকল্প এর মাধ্যমে উৎস (UTSA) এর আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাকেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিরাময়ী নাট্য প্রয়োগকে দিয়েছিল একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। এই পযায়ের যার সার্বক্ষনিক সমর্থন ও পরামর্শ আমাদের সমৃদ্ধ করেছিল; তিনি হলেন- মনোচিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ মোস্তফা।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কর্মরত আমার মনোবিশ্লেষক নাট্যবিদ বন্ধুদের সাথে ২০০১ এ চালু হওয়া TTCD এর সু-সংগঠিত নিরাময়ী নাট্য অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়োমিত শেয়ারিং করা হতো। এতে তারা উৎসাহিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশে আসার।

আমাদের লক্ষ্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক নিরাময়ী নাট্যচর্চাকে আরো সমৃদ্ধ ও একাডেমিকভাবে করার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৩ সালে বাংলাদেশে আসা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় আমরা বাংলাদেশে শুরু করেছিলাম প্রথম NTTW (National Therapeutic Theatre Workshop)। যা পরিচালনা করেছিলেন- ড. হার্ব প্রপার এবং জেনিফার ক্রিস্টাল। আমেরিকা থেকে আগত  সাইকোড্রামা ও সোসিওড্রামা এক্সপার্ট ড. হার্ব এবং প্লেব্যাক থিয়েটার ও আর্ট থেরাপি এক্সপার্ট জেনিফার কতৃক পরিচালিত সেই কর্মশালা গুলো ছিলো বাংলাদেশে হাতে-কলমে থেরাপিউটিক থিয়েটার বা নিরাময়ী নাট্য এর প্রাতিষ্ঠানিক বা বিদ্যায়তনিক পাঠের সূত্রপাত ঘটেছিল।সেই সূত্রপাত পরবর্তীতে অপরাপর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় প্রতি বছর NTTW হিসেবেই পরিচালিত হতে থাকে। যাতে ছেদ পড়েছিল করোনাকালে। প্রতিবছরের NTTW তে পরিচালনার জন্য ১/২ জন করে ইতোমধ্যে ২০ জন নিরাময়ী বা থেরাপিউটিক থিয়েটার এক্সপার্টগন বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রের নিজস্ব নাট্যশৈলী নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।


১৯৯৩ সালে TDR পত্রিকার নিবন্ধ পাঠের মধ্যদিয়ে নিরাময়ী নাট্যের পঠন-পাঠনের যে সূত্রপাত হয়েছিল তা ২০০৩ সালে উৎস (UTSA) আয়োজিত NTTW এর হাতে-কলমে শিক্ষণ দ্বারা বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দানের ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
যা পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়স্থ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ মনোবিজ্ঞান ও নাট্যকলা বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগসহ চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এর ইংরেজী বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন (AUW) এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (CBIU) এর ইংরেজী বিভাগের অংশগ্রহণে মধ্যদিয়ে হয়ে চলেছে সমৃদ্ধতর।


বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যচর্চার সূত্রপাত ও বিকাশে ও উত্তরণে উৎস (UTSA) আয়োজিত NTTW এর প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে ২০০৬ সালে গঠিত “বাংলাদেশ থেরাপিউটিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BTTI)” একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক প্রতিষ্ঠান।
BTTI প্রতিষ্ঠার থেকেই উৎস (UTSA)- এর একটি অন্যতম প্রধান থিয়েটার ইউনিট হিসেবে নিরাময়ী নাট্যের বিভিন্ন পদ্ধতি বা প্রয়োগকৌশল এর স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ, বিদ্যায়তনিক পাঠ ও পাঠ্যের উন্নয়ন, গোষ্ঠীভিত্তিক প্রয়োগকর্ম পরিচালনা করে চলেছে। যা বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যের দক্ষ প্রশিক্ষক ও চর্চার ক্ষেত্রকে বিকশিত করে চলেছে।
নিরাময়ী নাট্যের চর্চার ক্ষেত্রে পরবর্তিকালে উৎস (UTSA) পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় প্রদানকৃত মনোবিশ্লেষক বা প্রতিফলনমূলক লক্ষ্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক সেবা কার্যক্রম বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত কর্ম প্রচেষ্টা হিসেবে চলমান আছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রয়োগগুলো হলো- মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগউত্তর কমিউনিটিভিত্তিক নিরাময়ী নাট্যসেবা। যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর, আইলা, রাঙ্গামাটি পাহাড় ধ্বস এবং KGS গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড, মিরসরাই ট্রাজেডি এবং সাভার ট্রাজেডিসহ পরবর্তীকালে বিহারি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকেন্দ্রিক পরিচালিত মনবিশ্লেষক নাট্যসেবাসমূহ।
অপর দিকে উৎস (UTSA) এর সহযোগিতায় ২০১৪ সাল থেকে J. L MORINO এর জন্ম ও মৃত্যু দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজন করে আসছে ‘মরিনো থেরাপিউটিক থিয়েটার সপ্তাহ’ শীর্ষক নিরাময়ী নাট্যকর্মশালা ও নিরাময়ী নাট্যসেবা। যা বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যক্রিয়ার বিকাশকে করেছে আরও ত্বরান্বিত।
এছাড়া শিশু-কিশোর, যুব ও নির্যাতিত নারী এবং বয়স্ক ব্যাক্তিদের মনঃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মনোবেদনা লাঘবে নিরাময়ী নাট্যধারার প্রয়োগ ও চর্চা বহুমাত্রিকভাবে পরিচালনা করে চলেছে স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা উৎস (UTSA)।

২ নং প্রশ্ন: কোন কোন ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠান এই চর্চার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে?

উত্তর : বিগত ৩ দশকের বেশি সময়কাল ধরে ব্যক্তিগতভাবে আমার উদ্যোগে নিরাময়ী নাট্যক্রিয়া বিষয়ক পঠন-পাঠন, ১৯৯৩ সাল থেকে পরিচালিত কর্মশালাসমূহ এবং ১৯৯৭ সাল থেকে ইউনিট থিয়েটার কেন্দ্রিক লক্ষ্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক উৎস এর তত্ত্বাবধানের বহুমাত্রিক প্রয়োগ এর পাশাপাশি ২০০৩ সাল থেকে উৎস (UTSA) এর মাধ্যমে আয়োজিত NTTW তে বিভিন্ন NGO এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই ধারার নাট্য চর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ হলো-
(ক) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) এর মোতাহার আখন্দ, সাবিনা ইয়াসমিন সাবা প্রমূখ।
(খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজী বিভাগের দীবা ম্যাডাম, কামালউদ্দিন চৌধুরী, রাহাত মজুমদার, মাহামুদুর রহমান স্যার প্রমূখ।
(গ) জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়স্থ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ড. সেলিম আল দীন, ড. আফসার আহমেদ, ড. হারুন রশিদ, রিবন খন্দকার প্রমূখ।
(ঘ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আফজাল হোসেন, তুষার স্যার, সাহিন স্যার (যিনি জাপান থেকে লাফ্টার থেরাপি নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন)। শেষোক্ত দুজন ঢা. বি. ক্লিনিক্যাল সাইকোলজী বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে NTTW (২০০৩, ২০০৪ এবং ২০০৫ এ অংশগ্রহণ করেছিলেন)। তারা চ. বি. মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে পযায়ক্রমে যোগদান করে নিরাময়ী নাট্যক্রিয়ার অনুশীলনে রাখছেন গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিভাগের শিক্ষক লাইলুন নাহার নিরাময়ী নাট্য চর্চা ও বিদ্যায়তনিক পাঠে অবদান রাখছেন। যা থেরাপিউটিক থিয়েটার বা নিরাময়ি নাট্যের বিকাশে রাখছে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা। সর্বশেষ এই বিভাগে যোগ দিয়েছেন নাহার/কলি ম্যাডাম। তিনি ইতোপূর্বে উৎস (UTSA) এর কর্মকর্তা হিসাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এ নিরাময়ী নাট্য এর প্রয়োগ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি গবেষণামূলক কাজও সম্পন্ন করেছেন।
(ঙ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ নাট্যকলা বিভাগের এর বিভাগীয় সভাপতি থাকাকালে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অধ্যাপক অসীম দাসের আগ্রহে প্রথম এই বিভাগে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাময়ী নাট্য কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিলো। যার ধারাবাহিকতায় ৪র্থ বর্ষ (সম্মান) শ্রেণিতে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘থিয়েটার ফর থেরাপি (TfT)’ শিরোনামের একটি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে এর পরিধি বেড়ে এম. এ. (মাস্টার্স) পর্বে নিরাময়ী নাট্যের আরো দুটি কোর্স পরিচালিত হচেছ। সব কোর্স শিক্ষক হিসেবে শুরু থেকেই আমি খন্ডকালিন শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত থাকলেও; বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক আরাফাতুল আলম নিরাময়ী নাট্য প্রাতিষ্ঠানিকরণে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনিও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এ উৎস (UTSA) কর্মকর্তা হিসেবে নিরাময়ী নাট্যের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে নিজেকে করেছেন সমৃদ্ধ।
(চ) ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগে থেরাপিউটিক থিয়েটার বা নিরাময়ি নাট্য বিষয়ক পাঠ্যক্রম সম্মান ও মাষ্টার্স লেভেলে সিলেবাসভুক্ত করে পঠিত হচ্ছে। কোর্স শিক্ষক হিসেবে আমি নিযুক্ত হওয়ার পূর্বে বিভাগীও শিক্ষক আল জাবির স্যার বিভাগীয় প্রধান থাকাকালে তার আমত্রনে প্রতি বছর ১ টি করে (২০১৬-২০১৮) নিরাময়ী নাট্য বা থিয়েটার থেরাপি বিষয়ক ৩ দিন ব্যাপী কর্মশালা পরিচালনা করেছিলাম। যার অভিজ্ঞতার ফল কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ড. কামাল উদ্দিন বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে নিরাময়ী নাট্যকে কোর্স হিসেবে সিলেবাসভুক্ত করায় রেখেছিল অগ্রণী ভূমিকা। কোর্স শিক্ষক হিসেবে আমার সাথে দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে ইলা ও এশা ম্যাডাম রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাদের উভয়ের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও নিবিড় মনোনিবেশ নিরাময়ী নাট্য এই বিভাগে বিদ্যাতাত্ত্বিক পঠণ-পাঠণে পথকে করেছে সুগম।
(ছ) চবি মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে তুষার স্যার যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাইকোলজী বিভাগে যোগদান করেন- তখন থেকে তিনি ঐ বিভাগে নিরাময়ী নাট্যক্রিয়ার অন্যতম প্রধান প্রয়োগ কৌশল পঠন-পাঠনে ও প্রসারে রোল মডেল হিসেবে রাখছেন অগ্রণী-ভূমিকা।
(জ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিক NTTW তে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে NGO ব্র্যাক এর মাধ্যমে নিরাময়ী নাট্যের প্রয়োগ শৈলীকে সংযুক্ত করেছে বিদ্যায়তনিক পাঠ্যক্রম হিসেবে।
(ঝ) জানামতে বর্তমানে দেশের অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয় এ চালু থাকা নাট্যতত্ত্ব বিষয়ক বিভাগগুলোতে আগ্রহী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের নিরাময়ী নাট্য প্রয়োগ ও চর্চা নিয়ে গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
(ঞ) স্মরণীয় যে ইতোমধ্যে ড. আফসার আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে রবিউল আলম রুশো, ড. ইলা ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে সাদ্দাম, রিবন খন্দকারের সদস্যের তত্ত্বাবধানে রাহাত, ড. কামাল উদ্দিন স্যারের তত্ত্বাবধানে লিংকনসহ প্রমুখ শিক্ষার্থী নিরাময়ী নাট্য নিয়ে উচ্চতর গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেছেন এবং আরো অনেকে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্যের বিদ্যায়তনিক প্রসারে রাখছে অগ্রণী ভূমিকা, তাদের কাছে আমার ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা, সবার যোগ ও চর্চা আর পাঠে বাংলাদেশে সমৃদ্ধ হচ্ছে- নিরাময়ী নাট্যের পথচলা।

৩ নং প্রশ্ন: নিরাময়ী নাট্যচর্চায় কী কী পদ্ধতি বা কৌশল ব্যবহৃত হয়? বাংলাদেশে কোন কোন পদ্ধতি বা কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং কারা কখন তা কাদের সাথে করেছে? 
উত্তর : প্রশ্নের প্রথম অংশের উত্তরে বলা যায়- ইতোমধ্যে NTTW (২০০৩) থেকে প্রকাশিত পোস্টারগুলো অনুসরন করলে নিরাময়ী নাট্যের কোন কোন পদ্ধতি বা প্রয়োগ কৌশল ব্যবহৃত হয়েছিল বুঝা যাবে, অর্থাৎ কোন কোন থিয়েটার প্রয়োগশৈলীগুলো নিয়ে কর্মশালা পরিচালিত হয়েছিল- তার তালিকা পাওয়া যাবে। এর বাইরে আমিসহ উৎস (UTSA) কর্মকর্তা ও বিভিন্ন NTTW তে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগন দেশের বাইরে গিয়ে হাতে কলমে বেশ কিছু নতুন নাট্য প্রয়োগ শৈলীতে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চা করছে- নতুন নতুন নিরাময়ী নাট্য প্রয়োগ ধারা।
সার্বিকভাবে নিরাময়ী বা প্রতিবিধানমূলক বা থেরাপিউটিক থিয়েটার এর যে প্রয়োগ পদ্ধতি বা কৌশলগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে চর্চিত হয়েছে তা হলো নিম্নরূপ:
(ক) সাইকোড্রামা (Psychodrama)
(খ) সোসিওড্রামা (Sociodrama)
(গ) লিভিং নিউজপেপার থিয়েটার
(ঘ) প্লেব্যাক থিয়েটার
(ঙ) সাইকো থিয়েটার থেরাপি
(চ) ড্যান্স/মুভমেন্ট থেরাপি
(ছ) ক্লাউন থিয়েটার থেরাপি
(জ) ইমপ্রোভাইজেশনাল থিয়েটার থেরাপি
(ঝ) অ্যাকশন থিয়েটার থেরাপি
(ঞ) এক্টিং থেরাপি
(ট) নিউরো ড্রামা
(ঠ) সোল ড্রামা
(ড) ড্রামা থেরাপি
(ঢ) রেমিনিসেন্স থিয়েটার
(ণ) রেইন-বো থিয়েটার
(ত) কালার থেরাপি
(থ) আর্ট থেরাপি
(দ) মিউজিক থেরাপি
(ধ) মুভমেন্ট থেরাপি
(ন) ড্যান্স থেরাপি
(প) মাইম থেরাপি
(ফ) সাউন্ড থেরাপি
(ব) লাফটার থেরাপি
উল্লিখিত নিরাময়ী নাট্য ও শিল্পশৈলীয় প্রয়োগ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি ইতোমধ্যে শ্রবন প্রতিবন্ধীদের জন্য- “ভারবাল ড্রামা” শিরোনামে এক বিশেষ ধরনের নাট্যধারার উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়েছিলাম। যার ধারাবাহিকতার দ্বন্দ্ব নিরসনের মাধ্যম হিসেবে ‘মিটিং প্লে’ বা “ড্রামাজাক প্লে” নামক নাট্যশৈলী উদ্ভাবন করেছি, যেখানে জাদুকরী নাট্যক্রিয়া একটি সমন্বিত প্রয়োগবিদ্যা হিসেবে অনুশীলন শুরু হয়।
বিচিত্রধর্মী শিল্প ও নাট্যক্রিয়ার নিরাময়ী প্রয়োগকলার প্রশিক্ষণ গ্রহণ লক্ষ্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক প্রয়োগ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালে আমি সামগ্রিক নিরাময়ী বা মনোবিশ্লেষক প্রতিবিধানধর্মী শিল্পশৈলী গুলোকে একটি বৃহত্তর ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি” টার্মটি ব্যবহার করছি। যার নেপথ্যকথন ও দার্শনিক ভিত্তি অনুধাবনের জন্য এক্সপ্রেসিত সাইকোথেরাপিক বিষয়ক চিত্রকর্ম/মন্ডলি বা বিভিন্ন এন্ড-ফিল্ম ও চর্চার ডকুমেন্টস গুলো পাঠ করা জরুরী, এই বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন এবং ইউটিউবে থাকা আমার আলাপচারিতাগুলো সহায়ক উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগবে বলে- আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল শিল্পশৈলীগুলোর প্রতিবিধানমূলক অভিজ্ঞতাসমূহকে সামগ্রিক অর্থে নিরাময়ী প্রবনতায় ধাবিত করার মাধ্যমে মূলতঃ এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি সেশন পরিচালিত হয়, এটি মৌলিক নিরাময়ী সমন্বিত নাট্যভাবনার অভিজ্ঞতাজাত থেরাপিউটিক নাট্যবিজ্ঞানও বটে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো-
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের মানবিকতার উন্মেষ ঘটানো, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা কমিউনিটি একটি প্রশান্ত জীবন ও জীবনাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। যা “হ্যাপিনেস মোমেন্টাম ক্রিয়েট” করে অপেক্ষাকৃত কর্মীদের জন্য পিসফুল এনভায়রনমেন্ট নিশ্চিত করতে পারে, যাকে আমি অভিধা দিয়েছি “থিয়েটার ফর পিস (TfP)” বা “পিস থ্রো থিয়েটার”।
ভয়, নিগ্রহ, হীনমন্যতা, উৎকন্ঠা দূর করে, হিংসা, বিদ্বেষ মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একেকটি কার্যকর নিরাময়ী নাট্যক্রিয়া হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। নিরাময়ী নাট্যধারায় উৎসাহী নাট্যসৃজকগন আলোচ্য বাংলাদেশে প্রযুক্ত নাট্য পদ্ধতি বা কৌশলগুলো চর্চার মাধ্যমে এই ধারার মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার সামগ্রিক বিকাশ ও বিস্তার ঘটিয়ে চলেছেন। চালিয়ে বহুদর্শী অনুসন্ধান ও গবেষণা সমারে দাবি।
কেবলমাত্র উৎস (UTSA) এবং এর আওতায় গড়ে ওঠা থেরাপিউটিক থিয়েটার ইউনিট, TTCD, BTTI এর মধ্যে এখন আর বাংলাদেশে নিরাময়ী নাট্য চর্চিত হচ্ছে তা নয়; ব্র্যাক এর মতো NGO এখন এই ধারার নিরাময়ী নাট্যক্রিয়া যেমন অনুশীলন করছে; তেমনি বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু থাকা মনোবিজ্ঞান ও নাট্যতত্ত্ব বিষয়ক শিক্ষার দক্ষ নিরাময়ী নাট্য অনুশীলনক ও প্রয়োগকর্তা গড়ে তুলতে একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।
ডোনার Disester UK, ILO, একশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি (ADD), Uropion Commission, ActionAid, Diakonia, DCA এর মত INGO গুলো এই ধারার নাট্যক্রিয়ার প্রয়োগে অর্থায়ন করে চলেছে ধারাবাহিকভাবে, যা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বা SDG এর গোলগুলোর সূচক অর্জনে রাখছে ইতিবাচক ভূমিকা।
Well-being এখন ব্যক্তির গন্ডি পেরিয়ে কমিউনিটি নিড এ পরিনত হয়েছে। পেশাগত ভাবে এই নিরাময়ী নাট্যের বিভিন্ন প্রয়োগ শৈলী বাংলাদেশে এখন একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে; গড়ে উঠছে এই ধারার বিশ্বাসী নাট্যক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ভিত্তি, সবার যোগে গুরুত্ব পাক নিরাময়ী নাট্যের অভিযাত্রা। – ইয়াকিন হায়দার, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ্-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে নাতে রাসুল (সাঃ) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

এস এম আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম: পবিত্র রবিউল আউয়াল...
spot_img