কাপ্তাই প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মেসুই হ্লা মারমা (মিথিলা)। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভের মধ্য দিয়ে তিনি কাপ্তাই উপজেলার প্রথম নারী আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে কাপ্তাই উপজেলায় বসবাসরত মারমা সম্প্রদায়ের প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবেও তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
মেসুই হ্লা মারমা কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা ইউনানি চিকিৎসক সাজাইন প্রু মারমা এবং মা স্বাস্থ্য সহকারী চিংভোয়াং খই মারমা। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। তার বড় ভাই উচ্ছহ্লা মারমা বর্তমানে লন্ডনে ব্যারিস্টারি বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন।
মেসুই হ্লা মারমার শিক্ষাজীবন শুরু হয় চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানের রাইজিং সান স্কুলে। সেখানে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি কেপিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করতে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নেন। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত ফলাফলে তিনি অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ভাইভা পরীক্ষাতেও সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।নিজের এই অর্জন সম্পর্কে অ্যাডভোকেট মেসুই হ্লা মারমা বলেন, ‘বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে আইনজীবী বানানোর। সেই লক্ষ্যেই এই পেশাকে জীবনসাধনা হিসেবে গ্রহণ করেছি।’তিনি বলেন, সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সঠিক আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান। কাপ্তাইসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কাপ্তাই ও পার্বত্য অঞ্চলের নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য অ্যাডভোকেট মেসুই হ্লা মারমা এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। রাঙামাটি জেলা বারের নব্য আইনজীবী হিসেবে তার এই পথচলা সফল ও স্বার্থক হবে সকলের আশা।


