পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় এবার কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন হারবাং এলাকা থেকে আরও ১৫০ বস্তা (সাড়ে ৭ টন) চিনি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে হারবাং এলাকার নোনাছড়ি এলাকার একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া টেইলার্সের দোকান থেকে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়।এর আগে, বুধবার দিবাগত রাতে বান্দরবানের আজিজ নগর বাজার থেকে একই ঘটনায় লুণ্ঠিত চিনির মধ্যে ১৩৪ বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান।এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুইজনকে এজাহারনামীয় করে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে লুণ্ঠিত চিনির মালিক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় চিনি পরিবহনকারী কাভার্ডভ্যানের চালককে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার আসামি আলমগীরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।এ বিষয়ে এসআই মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ির একটি বন্ধ দোকান থেকে দেড়শ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। বন্ধ দোকাননের মালিক রাসেল। রাসেল আজিজনগর এলাকার মুদি দোকানি জুয়েলের ভাই। এর আগে বুধবার রাতে জুয়েলের গোডাউন থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়। এতে লুণ্ঠিত ৩০০ বস্তা চিনির মধ্যে ২৮৪ বস্তা উদ্ধার হয়েছে।তিনি বলেন, এ ঘটনায় চিনির মালিক সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার মামলা হয়েছে। মামলায় কাভার্ডভ্যান চালক আলমগীর ও আজিজনগর বাজারের মুদি দোকানি রাহাত উদ্দিন জুয়েলকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলায় পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গ করে চালক অন্য আসামিদের যোগসাজশে চিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন। মামলায় চালক আলমগীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।হারবাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, আজিজ নগর বাজারের মুদি দোকানি জুয়েল ও নোনাছড়ির রাসেল আপন ভাই। চিনি আত্মসাতের ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর তারা বুধবার রাত থেকে পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ নিয়ে আমরা রাসেলের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। রাসেলের তালাবদ্ধ দোকান থেকে ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা স্থানীয় লোকজনকে আলু নামানোর কথা বলে চিনিগুলো ওই দোকানে মজুত করেছিলেন।এদিকে, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে, কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে অন্য আসামিদের পরস্পর যোগসাজশে ১৫ টন (৩০০ বস্তা) চিনি বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছে। এসব চিনি আজিজ নগর বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব স্টোরের মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে কিনে নিয়ে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজ নগর বাজারে জুয়েলের গোডাউন থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে দোকান মালিক জুয়েল পালিয়ে যান।এর আগে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়।


