অনলাইন ডেস্ক: বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্দোলনের তৃতীয় দিনে কোনাবাড়ী ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভের মধ্যে একটি পুলিশ বক্স, কারখানার গুদাম ও একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের প্রায় ১০০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে একই দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মুখে পড়া সাভার ও আশুলিয়ার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হয়েছে। সেখানকার বেশির ভাগ কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন।এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।


